অবশেষে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে এল আমদানি করা ডিমের প্রথম চালান। রোববার বিকেলে ভারতীয় একটি মালবাহী ট্রাকে পেট্রাপোল দিয়ে বেনাপোলে প্রবেশ করে প্রায় ৬২ হাজার পিস মুরগির ডিম
ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিডিএফ করপোরেশন ভারতীয় রপ্তানিকারক কানুপ, ত্রিপুরা ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ডিমের চালানটি আমদানি করে।
আমদানিকারকের মনোনীত সিএন্ডএফ এজেন্ট এমি এন্টারপ্রাইজ জানায়, এই ডিমের আমদানি মূল্য ২ হাজার ৯ শত ৮৮ দশমিক ৪০ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার টাকা। আমদানি মুল্যের উপর ২৮ শতাংশ শুল্ক করাদি পরিশোধ করে বেনাপোল কাস্টমস থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে।
এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের উপ কমিশনার অথেলো চৌধুরী বলেন, 'ডিমের চালানটি যেহেতু জরুরি এবং পচনশীল সে কারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পণ্যচালান পরীক্ষণ করে খালাশের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি রাতেই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। আমরা পুরো প্রক্রিয়াটি মনিটরিং করছি। আনলোড করা হয়েছে ডিমের চালান।'
চলতি বছর বাজারে আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। পরবর্তিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এই পণ্যের দামও নির্ধারণ করে দেয়। সে সময় খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের দাম ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বেঁধে দেওয়া এ দর যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে ১৫০ টাকা।
এর প্রেক্ষিতে প্রথম দফায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর চার প্রতিষ্ঠানকে চার কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে মীম এন্টারপ্রাইজ, প্রাইম এনার্জি ইমপোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স, টাইগার ট্রেডিং ও অর্ণব ট্রেডিং লিমিটেড।
পরে দ্বিতীয় দফায় ২১ সেপ্টেম্বর আরও ছয় প্রতিষ্ঠানকে ছয় কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে চিজ গ্যালারি, পপুলার ট্রেড সিন্ডিকেট, এমএস রিপা এন্টারপ্রাইজ, এসএম করপোরেশন, বিডিএস করপোরেশন ও মেসার্স জয়নুর ট্রেডার্স। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে ছিল ডিম আমদানি।
দেশে কার্যত ডিম আমদানি নিষিদ্ধ। তবে প্রয়োজন হলে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানির অনুমতি দিতে পারে। ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে চারটি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।





