Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

পঞ্চগড়ে শিশু মোবাশ্বের হত্যা মামলায় যুবককের কারাদণ্ড

admin • 21 Jun 2026, 08:29 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
পঞ্চগড়ে শিশু মোবাশ্বের হত্যা মামলায় যুবককের কারাদণ্ড

পঞ্চগড়ে ছয় বছর পর পাঁচ বছরের শিশু মোবাশ্বের হোসেনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় সিয়াম আহম্মেদ মিঠু (২২) নামে এক যুবককে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আদায়কৃত অর্থ নিহত শিশুর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

রোববার(২১ জুন) পঞ্চগড়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসাইন মুহম্মদ ফজলুল বারী এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সিয়াম আহম্মেদ মিঠু বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া এলাকার আশিকুর রহমান স্বপনের ছেলে।

 

ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১৬ বছর। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৮ মে দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের নায়েকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলম হোসেনের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মোবাশ্বের হোসেন নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

 

পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগে শিশুটিকে সর্বশেষ সিয়ামের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, সিয়াম ও মোবাশ্বের একই এলাকার প্রতিবেশী ছিল। শিশুটি হারিয়ে যাওয়ার পর অভিযুক্ত নিজেও পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর সঙ্গে খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেয় এবং মাইকিংয়ের কাজেও সহযোগিতা করে। এ কারণে প্রথমদিকে তার প্রতি কারও সন্দেহ তৈরি হয়নি। তবে তদন্তে তার সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে।

 

পরবর্তীতে নিকটবর্তী একটি বেতবাগান থেকে মোবাশ্বের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত চলাকালে সিয়াম বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন এবং ভিকটিম ইমপ্যাক্ট বিবরণী পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

 

রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় শিশু অপহরণের দায়ে ৭ বছরের আটকাদেশ ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের আটকাদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার দায়ে ১০ বছরের আটকাদেশ ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত দুটি দণ্ড ধারাবাহিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া অর্থদণ্ড থেকে আদায় হওয়া ৭০ হাজার টাকা নিহত শিশুর মা সেলিনা বেগমকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নিহত শিশুর বাবা আলম হোসেন বলেন, অভিযুক্ত তাদের প্রতিবেশী হওয়ায় কখনো তাকে সন্দেহ করেননি। সন্তানের খোঁজে যখন তারা দিশেহারা ছিলেন, তখন সেও খোঁজাখুঁজিতে অংশ নিয়েছিল। দীর্ঘ ছয় বছর পর আদালতের রায়ে তারা কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী পঞ্চগড়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. খলিলুর রহমান বলেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, জবানবন্দি ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করেই আদালত এ রায় দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।