রাজধানীসহ সারাদেশে উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর বা হাই ফিভার। আক্রান্তদের শরীরের তাপমাত্রা অল্পতেই ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে যাচ্ছে, যা বছর দুয়েক আগেও ছিল ১০২ থেকে ১০৩ ডিগ্রির মধ্যে। এর সঙ্গে সর্দি, কাশি ও মাথা যন্ত্রণার মতো উপসর্গও থাকছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিত্য নতুন ভাইরাসের কারণে মানুষের শরীরে তাপমাত্রা বাড়ছে।
মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা বন্যা নামে এক রোগী জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন। বহু চেষ্টাতেও তার শরীরের তাপমাত্রা কমানো যাচ্ছে না, যা মাঝে মাঝে ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই হাসপাতালের অধিকাংশ রোগীই বর্তমানে জ্বরে আক্রান্ত। তবে পরীক্ষায় তাদের ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া কিংবা কোভিড শনাক্ত হচ্ছে না, কিন্তু তারা উচ্চ জ্বর এবং তীব্র শরীর ব্যথায় ভুগছেন।
ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল ডা. তানভীর আহমেদ জানান, হাসপাতালে এখন যারা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আসছেন, তাদের বেশিরভাগই ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত। ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন ধরণের জীবাণু শরীরে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার তাপমাত্রা তৈরি করতে সক্ষম।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী জানান, নতুন ভাইরাসের কারণে শরীরে তাপমাত্রার তীব্রতা বাড়ছে। তিনি উচ্চ জ্বরে আতঙ্কিত না হয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার এবং সঠিক নিয়মে শরীর মোছার পরামর্শ দেন।
অধ্যাপক মুন্সী আরও বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বরের তাপমাত্রা যেন ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট অতিক্রম না করে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।





