পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে দেদারছে সেশন ফির নামে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে গোবিন্দ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে। সেশন ফির নামে অভিভাবকদের গলা চেপে ধরার এমন প্রবণতায় রীতিমতো অনেক অভিভাবক কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। সেই সাথে আবাসিকে থাকতে হলেও বছরের শুরুতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ।
দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নে গড়ে উঠা গোবিন্দ আইডিয়াল স্কুল ও কলেজের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রদত্ত তথ্য মতে, প্রথম শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৩০০ জন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ভর্তি ফি বাবদ নেওয়া হয়েছে ১০০০ টাকা। সে হিসেবে এক শিক্ষাবর্ষে তার আয় ১৩ লাখ টাকা। হাতে আসা কয়েকটি সেশন ফি আদায়ের রশিদ থেকে বিষয়টি জানা যায়।
এইদিকে গতবছর ১৯ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা জারি করে। সেখানে সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি মফস্বল এলাকায় সর্বসাকুল্যে পাঁচশত টাকা নেওয়ার বিধান রাখা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোবিন্দ রায় বলেন, ৫০০ টাকা সেশন ফি হিসেবে নেওয়া হয়। আর বাকী ৫০০ টাকা থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর ব্যাজ, টাই, ডায়েরী প্রদান করা হয়। সেই সাথে স্মার্ট স্কুল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেমের বিষয়টিও এখানে অন্তর্ভুক্ত আছে বলে জানান।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলে মেলে ভিন্ন তথ্য। বিদ্যালয়টিকে ‘স্মার্ট স্কুল’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও পরীক্ষার ফলাফল মোবাইলে পাঠানোর যে ডিজিটাল নোটিফিকেশন সিস্টেম চালু করার দাবি করেছিলেন অধ্যক্ষ, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সন্তানরা ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলেও তাদের ফোনে কোনো অটোমেটেড এসএমএস আসে না, এমনকি পরীক্ষার ফলাফলও জানতে হচ্ছে সনাতন পদ্ধতিতে। শুধু তাই নয়, প্লে থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত ডায়েরী দেওয়া হলেও বাকী চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ডায়েরী দেওয়া হয় না। সেই সাথে টাই ও ব্যাজ বাবদ প্রতি শিক্ষাবর্ষে অর্থ আদায় করলেও প্রতি বছর নতুন টাই ব্যাজ দেওয়া হয় না। একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। এভাবেই বিপুল পরিমাণ অর্থ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তড়িঘড়ি করে এখন ডায়েরী সরবরাহের খবরও পাওয়া গেছে। অপরদিকে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা রয়েছে। এর জন্য প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অংকের অর্থ গুনতে হয় অভিভাবকদের। এরপরও বছরের শুরুতে ২০০ আবাসিক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে একহাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। যার মোট অংক দাঁড়ায় দুই লাখ টাকা। এভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে টাকা বানানোর মেশিনে পরিণত করার অভিযোগ উঠেছে গোবিন্দ রায়ের বিরুদ্ধে।
আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রতি বছর বাড়তি এক হাজার টাকা আদায়ের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোবিন্দ রায় বলেন, অনেক সময় বাচ্চাদের তোষক নষ্ট হয়ে গেলে, খাট ভেঙ্গে গেলে এই খাত থেকে ব্যয় করে সেগুলো বদলে দেওয়া হয়। বছরের শুরুতে সব আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অর্থ আদায় করা হলেও প্রতি বছর তাদের নতুন খাট ও তোষক সরবরাহ করা হয় না বলে একাধিক শিক্ষার্থী নিশ্চিত করেছে। সার্বিক বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বার্তা প্রেরক সিরাতুল মোস্তাকিম নিজস্ব প্রতিবেদক





