Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

থানায় আদালত বসিয়ে মা-মেয়েকে জেলে পাঠালেন ইউএনও

admin • 07 Mar 2026, 02:26 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় থানা চত্বরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মা ও মেয়েকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে পেকুয়া থানায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুবাইদা জন্নাত ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু। তারা পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার বাসিন্দা।

জুবাইদা ও রেহেনার পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক সম্পদ নিয়ে চকরিয়া আদালতে তাদের একটি মামলা চলছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে আছেন পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব। জুবাইদার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে পল্লব ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। পরে তিনি বিপক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পল্লবকে দেওয়া টাকা ফেরত চাইতে বুধবার থানায় যান মা ও মেয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, থানায় পল্লবের সঙ্গে মা ও মেয়ের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মা ও মেয়েকে মারধর করে নারী পুলিশ সদস্যরা থানার ফটকে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পেকুয়ার ইউএনও থানায় আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মনজিলা বেগম জানান, এসআই পল্লবের সঙ্গে মা ও মেয়ের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের মারধর করে থানা থেকে বের করে দেয়। এ সময় অন্যান্য সেবাপ্রার্থীদেরও সরিয়ে দেয়। পরে ওসি ও ইউএনও এসে মা ও মেয়েকে সাজা দেন।

জুবাইদার ছোট ভাই রুবেল বলেন, আমার বোন ও মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। টাকা ফেরত চাওয়ায় মারধর করে ইউএনওকে ডেকে এনে এক মাসের সাজা দেওয়া হলো-এটি কোন ধরনের আইন? দুজন নারী থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা করার সাহস কীভাবে পাবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পেকুয়া থানার এসআই পল্লবকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভি করেননি। পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম দাবি করেন, ওই দুই নারী থানায় এসে পুলিশের ওপর হামলা করেছেন। ঘুষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

মা ও মেয়ে থানায় সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন দাবি করে পেকুয়ার ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুব বলেন, ‘এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। তদন্ত করে সাজা দিয়েছি।

এসআই পল্লবের ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে ইউএনও বলেন, ‘এটি কর্তৃপক্ষের তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আমি শুধু খারাপ আচরণের জন্য তাদের সাজা দিয়েছি।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। পুরো ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি করা হবে।’

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।