মেয়েকে বিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে জোর করায় মাকে গ্রেপ্তার করে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ। মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্য জোরাজুড়ি করেন এবং অর্থের বিনিময়ে তিনি তার ২১ বছর বয়সী মেয়েকে বিয়ে দেন। খবর বিবিসি
৪০ বছর বয়সী সকিনা মোহাম্মাদ জান নামের ওই মা সামান্য অর্থের বিনিময়ে তার মেয়েকে ২০১৯ সালে ২৬ বছর বয়সী মোহাম্মাদ আলী হালিমির কাছে বিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের ছয় সপ্তাহ পর নববধূতে খুন করেন হালিমি। এ ঘটনায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মেয়েকে এমন ব্যক্তির কাছে বিয়েতে জোর করার অপরাধে সোমবার (২৯ জুলাই) অস্ট্রেলিয়ার আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ২০১৩ সালের বিবাহ আইন অনুযায়ী যদি কেউ এ আইন ভঙ্গ করে তাহলে তাকে কমপক্ষে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়াতে বিবাহ আইন ভঙ্গ করার বেশ কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে সকিনা মোহাম্মাদ জানই প্রথম ব্যক্তি যিনি এ ধরনের আইনে সাজা পেয়েছেন।
তালেবানের হামলার শিকার হয়ে ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যাওয়া এই নারী ভিক্টোরিয়া এলাকায় পাঁচ সন্তানের সঙ্গে বসবাস করতেন। জানের আইনজীবী বলেছেন, মেয়ের হত্যাকাণ্ডে তিনি অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছেন। তবে এ ঘটনায় তিনি নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেননি।
আদালতের শুনানিতে বলা হয়, মেয়ে রিকুয়া হায়দারিকে ১৫ বছর বয়সে ধর্মীভাবে বিয়েতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে এটি দুই বছর পর সম্পন্ন হয়। তবে রিকুয়া হায়দারি ২৭ অথবা ২৮ বছরের আগে বিয়ে করতে চায়নি।
বিচাক এফরান ডালজেইল তার রায়ে বলেন, হায়দারি পড়াশুনা শেষে চাকরি করতে চেয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, তবে মা হিসেবে জান তার মেয়ের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে তিনি তার মেয়ের মতামতকে উপেক্ষা করেছেন এবং মা হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।





