Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

জামালপুরে ভ্রমণের নামে ইয়াবা চালান,অনুসন্ধানে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

admin • 07 Nov 2025, 10:49 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
জামালপুরে ভ্রমণের নামে ইয়াবা চালান,অনুসন্ধানে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

জামালপুর শহরে সম্প্রতি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে সর্ববৃহৎ ইয়াবার চালান। আর এই অভিযানকে ঘিরে একে একে বেরিয়ে আসছে শহরের আলোচিত ইয়াবা সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের নাম।

 

আটক দম্পতি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন মুসলিমাবাদের জনি রানা, মোস্তফা ও কুখ্যাত ফারুক। চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর (শুক্রবার) সকালে শহরের দড়িপাড়া এলাকায় ‘বিসমিল্লাহ ট্রাভেলস’ এর একটি আনন্দ ভ্রমণের বাসে তল্লাশি চালিয়ে ২২ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

 

উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৬ লাখ টাকা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার ডিগ্রীরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিন ও তার স্ত্রী শাহিদা বেগম। তারা দীর্ঘদিন ধরে শহরের মুসলিমাবাদ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। রিমান্ডে নেওয়ার পর মঙ্গলবার শাহিদা বেগম সাংবাদিকদের কাছে দেন একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিনি জানান, “এই ইয়াবা সিন্ডিকেটের মূল হোতা জনি, মোস্তফা ও ফারুক।”

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, জনি রানা, মুসলিমাবাদ এলাকার মৃত বানছের আলীর ছেলে; আর মোস্তফা মৃত জবান আলীর সন্তান। জনি রানা শহীদ হারুন সড়কের ‘ম্যাক্স ফুটওয়ার’ নামে একটি জুতার দোকানের মালিক। অন্যদিকে মোস্তফা জামালপুর জেলা যুবদলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। কুখ্যাত ফারুক, যাকে এলাকাবাসী “পিচ্চি ফারুক” নামে চেনে, অতীতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থেকে মাদক ব্যবসার কারণে বিতাড়িত হয়েছিলেন। পরে জামালপুরে অবস্থান নিলেও এখান থেকেও জনরোষের মুখে পালিয়ে যান।

 

বর্তমানে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থান করে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনেরা। এই ঘটনায় মুসলিমাবাদের চার গ্রামের সমন্বয় কমিটি ২৪ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি বৈঠক করে। ৩১ অক্টোবর রাতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গ্রেপ্তার শাহিদার মেয়ে বিস্তারিতভাবে জনি, মোস্তফা ও ফারুকের নাম উল্লেখ করেন। সেই বৈঠকের একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

 

এ নিয়ে মুসলিমাবাদ, বাগেরহাটা বটতলা, বামুনপাড়া ও শেরপুরের কুলুরচর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় এ ঘটনায় সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে,  দুই দশক আগে জনি ছিলেন চুড়ি-মালা বিক্রেতা। পরে ফেনসিডিল বিক্রি শুরু করে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন একটি শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট। বর্তমানে তিনি কোটি টাকার সম্পদের মালিক।

 

মুসলিমাবাদে নিরালা মার্কেট, শহীদ হারুন সড়ক, বাগেরহাটা বটতলা ও কথাকলি মার্কেটের পেছনে রয়েছে তার জমি ও ভবন। পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন তিনি। অন্যদিকে মোস্তফা ছিলেন চালান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে। কক্সবাজার থেকে ইয়াবা আনার পুরো পরিকল্পনা তারই।

 

যে বাসে চালান আনা হয়, সেটির মালিক মোস্তফার মেয়ের জামাই। তার ছেলে রাজিব সম্প্রতি হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। একাধিক সূত্রে জানা যায়, জনি বড় চালান এনে ছোট ছোট ভাগে বিক্রি করে দেয় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে। মুসলিমাবাদের অন্তত ১০টি গ্রুপ এসব ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

 

মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে জনি রানা বলেন, আমি এই শহরের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। দুই বছর আগেও একটি চক্র আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল। তারা আমার মানহানি করতে চায়। কিন্তু আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই, আমার সব আয় হালাল। অন্যদিকে মোস্তফা দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো। যারা অভিযোগ করছে তারাই আসল মাদক ব্যবসায়ী। আমাকে ফাঁসিয়ে মূল হোতাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, রিমান্ডে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে অতি শিগগিরই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।