Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

জামালপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবাসায়ীকে অপহরন করে মারধরের অভিযোগ

admin • 17 Nov 2025, 08:33 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
জামালপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবাসায়ীকে অপহরন করে মারধরের অভিযোগ

জামালপুরে বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে মোটরসাইকেলে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০টি সাদা চেক ও ৯টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

 

অভিযুক্ত ওই বিএনপি নেতার নাম মনোয়ারুল ইসলাম কর্ণেল। সে জামালপুর জেলা বিএনপির সাবেক স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

 

সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধায় প্রেসক্লাব জামালপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জামালপুর শহরের পুস্তক ব্যবসায়ী ও পৌরসভার বামুনপাড়া এলাকার মৃত হযরত আলী মন্ডলের ছেলে মনিরুজ্জামান মনির (৪৫)

 

এছাড়া ভুক্তভোগী ওই বিএনপি নেতার সহযোগী হিসেবে বেলটিয়া এলাকার শাকিল লসকর (৩৫), গেইটপাড়ের সাজ্জাদ (৩০), পশ্চিম ফুলবাড়িয়ার মিলন খান (৫৫) এর নামেও অভিযোগ করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মনির জানান, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সাবেক নেতা মনোয়ার কর্ণেল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৬ নভেম্বর রবিবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তিন দফায় তাকে তুলে নিয়ে বর্বর মারধর করা হয়।

 

তিনি আরও বলেন, রবিবার পশ্চিম ফুলবাড়িয়া থেকে তাকে মোটরসাইকেলে জোর করে তুলে গেইটপাড়ের একটি কাচি বিরিয়ানির দোকানে নেওয়া হয়। সেখানে মনোয়ার কর্ণেলের ইশারায় আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, থাপ্পড় ও লাথি মেরে আহত করা হয়।

 

মনির অভিযোগ করেন, মারধরের পর তাকে শহরের অগ্রণী ব্যাংক শাখায় নিয়ে গিয়ে তার নামে নতুন একটি হিসাব খোলা হয় এবং ১০ পাতার চেকবই সংগ্রহ করা হয় (হিসাব নম্বর: ০২** ২২০৫৯)। পরে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দেখিয়ে ১০টি সাদা চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়।

এরপর পূরবী পেট্রোল পাম্পের পেছনের গাড়ি পার্কিং এলাকায় নিয়ে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকির মুখে ৯টি অলিখিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই নিতে বাধ্য করা হয়। সুযোগ পেয়ে আহত অবস্থায় তিনি জামালপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনির বলেন, আমার সই করা চেক ও স্ট্যাম্প এখন তাদের হাতে। ইচ্ছা করলেই তারা যে কোনো মিথ্যা দেনা-পাওনার ফাঁদে আমাকে ফেলে বড় ক্ষতি করতে পারে। আমি ও আমার পরিবার ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছি।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ও বিএনপি নেতা মনোয়ারুল ইসলাম কর্ণেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। সাংবাদিক সম্মেলনে আমাকে জড়িয়েছে। জমি অধিগ্রহণের টাকার বিষয়ে মনির কারও টাকা নিয়েছিল বলে শুনেছি। সেই টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই তাকে মারধর করা হয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস বলেন, এ বিষয়ে এখনো অভিযোগ পায়নি। পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।