জামালপুরের মেলান্দহে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে একটি চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল বলে শনাক্ত করেছেন এর মালিক।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের পশ্চিম থুরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পাড়াডাঙ্গি গ্রামের মৃত সফির উদ্দিনের ছেলে মো. সোহাগ (৩৫) এবং জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মহিরামকুল গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে আনারের ছেলে মো. আসাদুল ওরফে আশরাফুল (২২)। পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার পশ্চিম ঘুরি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুইজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে একটি হিরো আই-স্মার্ট, একটি বাজাজ পালসার এবং একটি সুজুকি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার হওয়া হিরো আই-স্মার্ট মোটরসাইকেলটি মেলান্দহ থানার মামলা নং-২৩-এর বাদী তার চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল হিসেবে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় ১৭ জুন মেলান্দহ থানায় পেনাল কোডের ৩৭৯/৪১১/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজন সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, চোরাই মালামাল গ্রহণ এবং মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে। বিশেষ করে গ্রেপ্তার আসাদুল ওরফে আশরাফুলের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর, ইসলামপুর, মেলান্দহ ও শেরপুর সদর থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিকদের শনাক্তকরণ এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিক শনাক্তের কাজও অব্যাহত রয়েছে।





