Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
জাতীয় মতামত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা

admin • 27 Aug 2023, 03:04 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা

ভারতবর্ষে যিনি প্রথম স্বাধীনতার ডাক দিয়ে বৃটিশ শাসন শোষণ এর ভীত কাপিয়ে তুলেছিলেন তাঁর লেখনীর মাধ্যমে । যাঁর গান কবিতা মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় । তিনি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম । মানবতার জয়গান তিনি গেয়েছেন আমৃত্যু ।

লিখেছেন, ‘গাহি সাম্যের গান—/ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান্...’। তিনি দ্রোহে ও প্রেমে, কোমলে-কঠোরে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে দিয়েছেন নতুন মাত্রা।

সেই মহান মানব জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আজ ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ । ১৯৭৬ সালের এই দিনে (১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র) তিনি ঢাকায় পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মানুষ স্মরণ করছে প্রিয় কবিকে । আজকের এই দিনে অতল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি প্রিয় কবিকে।

নজরুল শোষিত বঞ্চিত মানুষের কথা এখনো বলছেন । বর্তমান এই হানাহানি, সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক নজরুল। তাঁর মহান আর্দশে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব ।

দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হয়েও কবি কখনো আপস করেননি , মাথা নত করেননি লোভ-লালসা, খ্যাতি, অর্থ,যশ বিত্ত-বৈভবের কাছে। আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য ।

যাকে বলা হয় মানবতার কবি, সাম্যের কবি, দ্রোহের কবি, প্রেমের কবি, বিপ্লবের কবি, বিদ্রোহের কবি । মানবতার মুক্তির পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধেও ছিলেন সোচ্চার। মুক্তবুদ্ধি ও চিন্তার পক্ষে কলম ধরেছেন নির্ভীক চিত্তে।

তাঁর রচিত ‘চল্ চল্ চল্’ গানটি আমাদের রণসংগীত। যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনি জীবনেও। ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে নজরুল দুটি বৈপ্লবিক সাহিত্যকর্মের সৃষ্টি করেন। একটি হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও অপরটি ‘ভাঙ্গার গান’। ১৯২২ সালে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতাই বাংলা কাব্যে নতুন বাঁক সৃষ্টি করেছিল।

শুধু কবিতাতেই নয়, গান রচনায় নজরুল অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি প্রায় তিন হাজার গান রচনা ও সুর করেছেন। নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন ধ্রুপদি ধারার সঙ্গে। রাগনির্ভর গানকে ভেঙেচুরে সাধারণের কাছে সহজবোধ্য ও শ্রুতিমধুর করেছেন। এক রাগের সঙ্গে অন্য রাগের মিলন ঘটিয়ে সংগীতে এক নতুন ধারার সৃষ্টি করেছেন।

মাত্র ২০ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত ১২০ লাইনের " বিদ্রোহী " কবিতা রচনার মাধ্যমে তিনি অল্প সময়েই খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন । সেই কবিতা যুগে যুগে কালে কালে গবেষণা, বিশ্লেষণ করে শত বছর পরেও প্রাসঙ্গিক ।" বিদ্রোহী" কবিতা রচনা করে তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাঁকাতে হয়নি ।

তিনি সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী একজন দার্শনিক ছিলেন ।। ছোটগল্প, উপন্যাস, গান, নাটক লিখলেও মূলত কবি হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত। গান, গজল, শ্যামা সংগীত সহ বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় রচনা তিনি করেন। আজীবন বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গি আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠের কারণে তিনি ভূষিত হন ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে। তিনি তাঁর কবিতার পঙ্ক্তিমালায় তুলে ধরেন নিপীড়িত মানুষের কথা। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সর্বদাই সোচ্চার ছিলেন নজরুল।

নজরুল এখনো পৃথিবীর সকল শোষিত বঞ্চিত মানুষের একক কন্ঠস্বর হয়ে আছেন। কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ মে) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। বাবা কাজী ফকির আহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। ১৯৭২ সালের ২৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। তাঁকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুলকে ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে দেওয়া হয় একুশে পদক। কবির জীবনের শেষ দিনগুলো কাটে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে। ৭৭ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কবি নজরুল তাঁর কবিতায় লিখেছিলেন, ‘মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই,/যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই’। সেই বিবেচনাতেই কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করা হয়। নজরুল পৃথিবীর সকল শোষিত বঞ্চিত মানুষের একক কন্ঠস্বর হয়ে আছেন, থাকবেন। প্রত্যেকের উচিত আমাদের জাতীয় কবিকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া । তাঁর আর্দশে অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশ কে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত , উন্নত সমৃদ্ধ নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হবে । কেবলমাত্র নজরুল আর্দশ ধারণ করলেই পৃথিবীতে সাম্য, মৈত্রী, শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে।

 আল আমিন, প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক , জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পাঠাগার পঞ্চগড় ।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।