Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার চিরবিদায় আজ

admin • 31 Dec 2025, 01:23 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার চিরবিদায় আজ

বাংলাদেশের রাজনীতির এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে। দেশনেত্রী, আপসহীন নেত্রী ও মানবতার মা হিসেবে পরিচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ চিরবিদায় নিয়েছেন। শারীরিকভাবে তিনি না থাকলেও গণতন্ত্র, সংগ্রাম ও সাহসের প্রতীক হয়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন তিনি।  

২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের সংকটময় সময়ে প্রবল আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ থাকা সত্ত্বেও খালেদা জিয়া দেশ ছাড়েননি। কারাবরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের আশঙ্কা জেনেও তিনি দেশ ও জনগণের পাশেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই অবস্থান তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও দৃঢ় ও আপসহীন নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোক জানিয়েছেন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও কূটনীতিকরাও। সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং বিএনপি দলীয়ভাবে সাত দিনের শোক পালন করছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা বলতে গেলে তিনি ছিলেন দুঃখের পাষাণে গড়া শুভ্র সুবাসী চন্দনের মতো এক মহীয়সী ব্যক্তিত্ব। চন্দন কাঠের যেমন নিজস্ব সুবাস থাকে, যা আপনা-আপনি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সংযত ভাষা, সহিষ্ণু আচরণ ও ব্যক্তিত্ব মানুষের মাঝে গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করেছিল। গুলশানের এক প্রবীণ বিএনপি কর্মী জুলফিকার সিদ্দিক বলেন, ওয়ান–ইলেভেনের সময় নেত্রী দেশ ছেড়ে গেলে আমরা ভেঙে পড়তাম। তিনি থেকে গেছেন বলেই আমরা সাহস পেয়েছি।   আরেক তরুণ কর্মী ৫২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সানির ভাষায়, আমরা তাঁকে শুধু নেতা হিসেবে নয়, একজন অভিভাবক হিসেবেই দেখেছি। একজন মমতাময়ী মা হিসেবে দেখেছি। তিনি আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ও ধৈর্য ধারণ করা শিখিয়েছেন।

এদিকে, খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক শোকবার্তায় বলেন, তাঁর মায়ের আদর্শ ও গণতন্ত্রের প্রতি আপসহীন অবস্থান চিরকাল মানুষকে পথ দেখাবে। খালেদা জিয়া নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছেন দেশ ও জনগণের জন্য। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নির্যাতনের মাঝেও তিনি দেশের স্বার্থ থেকে একচুলও সরে যাননি।

 

বুধবার সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নেওয়া হয়। হিম শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই পুরো দেশ থেকে থেকে লাখো মানুষ জানাজায় অংশ নিতে সংসদ ভবন এলাকায় জড়ো হন।

 

দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। জানাজা ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

 

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল-সবখানেই মানুষ স্মরণ করছে এক আপসহীন নেত্রীকে, যিনি ছিলেন গণতন্ত্র ও জনগণের পক্ষে অটল। তিনি চলে গেলেন, কিন্তু রেখে গেলেন সংগ্রাম, সাহস ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার এক অম্লান ইতিহাস।

 

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।