Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

আগের মন্ত্রীরা কেন বাদ পড়লেন, যা জানা যাচ্ছে

admin • 12 Jan 2024, 08:02 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
আগের মন্ত্রীরা কেন বাদ পড়লেন, যা জানা যাচ্ছে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবার মন্ত্রিসভায় এনেছেন বড় ধরনের পরিবর্তন।প্রধানমন্ত্রীসহ ৩৭ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে।

 

এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জনকে পূর্ণমন্ত্রী এবং ১১ জনকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে এবারের মন্ত্রীসভার থেকে বাদ পড়েছেন গত মেয়াদের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক মন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় দিকে বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।

 

বাদ পড়া মন্ত্রীরা হলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ।

 

এ ছাড়াও বাদ পড়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, বন ও জলবায়ু বিষয়কমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

 

আগের মেয়াদের মন্ত্রীরা এবারের মন্ত্রিসভার থেকে কেনো বাদ পড়লেন?

 

সংবিধান অনুসারে মন্ত্রিসভা গঠনের পুরোপুরি এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর হাতে। তিনি কাকে এই পদে অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং কাকে বাদ দেবেন সেটি তার এখতিয়ার। তবে বেশ কিছু মন্ত্রীর বাদ পড়ার কারণ নিয়ে দলের ভেতরে নানা আলোচনা ও অনুমান করা হচ্ছে।

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, এবারের মন্ত্রিসভার থেকে যারা বাদ পড়েছেন তারা যে আবার ফিরে আসবেন না এমন কোনো কথা নেই। তারা হয়তো কিছুদিন পরেও ফিরে আসতে পারেন। সে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

 

এই মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগের একাধিক নেতারা।

 

তারা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর যতগুলো মন্ত্রিসভা হয়েছে তার সবগুলোতে নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এবারের মন্ত্রিসভাও নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে।

 

দীর্ঘদিন মন্ত্রিসভায় থাকা ব্যক্তিদের এবার কম বিবেচনা করা হয়েছে বলে অনেকে ধারণা করছেন। এ ছাড়া আছে আঞ্চলিক হিসেবে-নিকেশ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যাতে মন্ত্রিসভার প্রতিনিধিত্ব থাকে সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা।

 

এ ছাড়া মন্ত্রিসভা গঠনে আরেকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সেটা হচ্ছে, মন্ত্রিসভায় কেউ কেউ স্থান পেয়েছেন যারা প্রধানমন্ত্রীর আস্থা ভাজন হিসেবে পরিচিত।

 

এবারের মন্ত্রিসভায় পূর্নাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে যারা নতুন এসেছেন তাদের মধ্যে একজন হলেন ডা. সামন্ত লাল সেন। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত পরিচয় রয়েছে। অনেকে মনে করেন তিনি শেখ হাসিনার আস্থা ভাজন। মন্ত্রী হবার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি কাজ করেছে কী না এমন প্রশ্নে ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আমি ঠিক বলতে পারবো না। আমি হয়তো সিনসিয়ারলি কাজ করেছি সারা জীবন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) হয়তো দেখেছেন।

   

প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২২ আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। গত ১০ জানুয়ারি শপথ নেন নতুন সংসদ সদস্যরা। শপথ নেয়ার পর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেন।

 

সংসদ নেতা হওয়ার পর বুধবার বিকেলে সংসদ সদস্যদের আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি শেখ হাসিনাকে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানান।

 

এরপর প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভা গঠন করেন এবং ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী গঠিত মন্ত্রিসভায় সম্মতি জ্ঞাপন করেন। এরপর মন্ত্রিসভার ওই তালিকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বুধবার রাতে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে তালিকায় থাকা ২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রীর নাম প্রকাশ করেন। ওই তালিকার একটি কপি তিনি সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করেন। ১১ জানুয়ারি বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ৩৬ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছেন মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।