Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

অবৈধভাবে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক আ.লীগ নেতা আতা

admin • 23 Oct 2024, 08:06 AM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
অবৈধভাবে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক আ.লীগ নেতা আতা

১৫ বছর আগেও যার ব্যাংকে লাখ টাকাও নগদ ছিল না। সেই আতাউর রহমান আতা ১৫ বছরের ব্যবধানে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। কি নেই আতার?  আলিশান বাড়ি থেকে শুরু করে কোটি টাকা দামের গাড়ী। কুষ্টিয়া থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আতার সম্পদ।

 

তার স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা হলেও সম্পদের কমতি নেই তার। অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ের আতার স্ত্রীর নামে মামলা হয়েছে। আর আতার সম্পদের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।  আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে আলাদীনের চেরাগ পেয়েছিল আতা। ঘসলেই বেরুতো টাকা। এক কথায়, আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছে সে। ভাই হানিফ ও দলের প্রভাব খাটিয়ে ১৫ বছরে শুধু সম্পদই অর্জন করে গেছে আতা।

   

কোন দিক না তাকিয়ে বাছ-বিচার ছাড়াই এক হাতে অর্থ কামিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ ও প্রভাবশালী নেতাদের সম্পদকে হার মানিয়েছে আতা। এমনকি হানিফের সম্পদ থেকেও আতার সম্পদ অনেক বেশি বলে মনে করেন দলীয় নেতারা।   হানিফের পর আতা ছিলেন কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দ্বিতীয় ব্যক্তি।

   

দুই ভাই মিলে জেলার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন। সব সরকারি কাজ ছিল তাদের নিয়ন্ত্রনে। এভাবে আতা জিরো থেকে বনে গেছেন শত শত কোটি টাকার মালিক। এ সময় একটি মটর সাইকেলে চড়লেও এখন তার কোটি টাকার দামি একাধিক গাড়ী আছে। স্ত্রী প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক হলেও স্বামীর টাকায় সেও কোটিপতি। ঢাকায় একাধিক ফ্লাট ও বাড়ি আছে আতার।  হানিফ দলের যুগ্ম সম্পাদক হওয়ায় আতা ছিল সবার কাছে আতঙ্কের। দলমত নির্বিশেষে সবাই আতাকে সালাম দিয়ে চলতেন। বিচার ও শালিস থেকে সবখানে আতার কথায় ছিল শেষ কথা।

 

বিএনপির কয়েকজন নেতা ছিল আতার ঘনিষ্ঠ। তাদের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন। এমনকি সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনের আগে হানিফের ভোটের কথা বলেও দলীয় নেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নেওয়া হয়। দেশ ছাড়াও দেশের বাইরে আতার সম্পদ ও অর্থ আছে বলে শোনা যায়।  

   

অবৈধ বালু ঘাট, হাট-বাজার, বিল ও বাওড় নিয়ন্ত্রণ করতেন আতা। তিনি এভাবে গত ১৬ বছরে শতশত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। হাসিনা পালিয়ে যাবার পর আতা গা ঢাকা দিয়েছেন। তার বাড়ি লুটপাট হয়ে গেছে। আতার স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুনীতি দমন কমিশন মামলা করেছে। আতার অবৈধ সম্পদ অর্জন নিয়ে অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে। যে কোন সময় মামলা হতে পারে বলে জানা গেছে। 

 

শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সদর আসনের সংসদ সদস্য হানিফের চাচাতো ভাই ও স্থানীয় প্রতিনিধি- এসব পরিচয় আতার জন্য স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকে সহজ করে দেয়। দিন দিন বাড়তে থাকে তার প্রভাব, দলীয় নেতাকর্মীরাও আসতে থাকেন তার কাছে। অল্প দিনেই শহর ও সদরের রাজনীতিতে তৈরি করেন নিজস্ব বলয়। অভিযোগ আছে, পুরো  জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিই হানিফ নিয়ন্ত্রণ করতেন আতার মাধ্যমে।  এরপর অর্থ-বিত্তে-সম্পদে ফুলে ফেঁপে ওঠে আতাউর রহমান আতা। ২০২২ সালে আতার বিপুল অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তি তুলে ধরে দুদকে একটি অভিযোগ জমা পড়ে।

 

এতে বলা হয়, ১০ বছরের ব্যবধানে ভাই হানিফের প্রভাব আর আওয়ামী লীগের পদ-পদবি ব্যবহার করে বাড়ি-গাড়িসহ ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন আতা। এই অভিযোগ উঠার পর ২০২২ সালে দুদক আতার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে। আতা জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ কুষ্টিয়া অফিস থেকে সাড়ে ৫ কাঠার ২টি প্লট নিয়েছেন। শহরের হাউজিং এলাকার ডি ব্লকে ৬ ও ৭ নং প্লটে নির্মাণ করেছেন ১০ তলা হাইয়ারেজ বিল্ডিং। স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীর নামে তিনি ওই সম্পদ করেছেন। এখানে বিনিয়োগের ব্যাপারে আয়কর নথিতে দেখানো হয়েছে মাত্র ৭৫ লাখ টাকা।

   

অথচ ভবন করতেই খরচ হয়েছে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা বলে আতা ঘনিষ্ঠ এক আওয়ামী লীগ  নেতা দাবি করেছেন।  এছাড়া কুষ্টিয়া হাই স্কুল মার্কেটে ১২টি, পরিমল টাওয়ারে দুটি ছাড়াও জেলা পরিষদ মার্কেট, সমবায় মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে তার একাধিক দোকান আছে। শহরের বটতৈল এলাকায় জেলা পরিষদ মার্কেটের আটটি দোকান নিজ ও স্ত্রীর বরাদ্দ নিয়েছেন। একই মার্কেটে আরও চারটি দোকান আত্মীয়-স্বজনের নামে বরাদ্দ নিয়েছেন। ভেড়ামারার সাতবাড়িয়ায় ২৫ বিঘা জমি কিনে বাগান করেছেন।

 

এছাড়া ২৪ শতাংশ জমি রয়েছে আতার। ভেড়ামারা শহর এলাকায় ৯০ লাখ মূল্যে ২৪ শতক জমি, এছাড়া ভেড়ামারায় আরো প্রায় ১০টি জমি তিনি শত কোটি টাকায় ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে। তমিজ উদ্দিন মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন,‘ কুষ্টিয়া হাইস্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পানির দরে ১২টি দোকান নিজের নামে নিয়ে নেন আতা। এসব দোকান ভাড়া দেওয়া আছে।’ একইভাবে বটতৈল জেলা পরিষদ মার্কেটে সব থেকে বেশি দোকান বাগিয়ে নেন আতা। সেখানেও তার নামে ৮টি দোকান আছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

 

একই ভাবে শহরের যেখানেই মার্কেট হয়েছে সেখানেই দোকান দিতে হয়েছে আতাকে। জেলা পরিষদ, পরিমল টাওয়ার, সমবায় মার্কেটেও একাধিক দোকান আছে আতার। এসব দোকান প্রভাব খাটিয়ে নিজের নামে নেন। আতার নামে ব্যাংক এশিয়ার পাংশা, রাজবাড়ী শাখায় ২ কোটি টাকার ডিপোজিট রয়েছে এক হিসাবে। ব্যাংক এশিয়া কুষ্টিয়া শাখায় আতার চলতি হিসাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়। পূবালী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখায় হিসাব রয়েছে আতার, যেখানে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ডিপোজিট রয়েছে। উত্তরা ও রূপালী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখায় আতার নামে ডিপোজিট আছে।

 

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখা আতার স্ত্রী সাম্মিয়ারার নামে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ডাবল বেনিফিট স্কিম, ন্যাশনাল ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখা সমপরিমাণ টাকার ডাবল বেনিফিট স্কিম ডিপোজিট রয়েছে। আতা ঢাকার গুলশানে ৪০০০ বর্গফুটের একটা ফ্ল্যাট কিনেছেন, যার মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা। ঢাকার উত্তরখান এলাকায় ৬কাঠা জমি যার মূল্য ২ কোটি টাকা। ওই জায়গায় ১০তলা বিল্ডিং নির্মানাধীন।

 

এসব সম্পদ ছাড়াও কুষ্টিয়া শহরের কয়েকটি বহুতল ভবনে একাধিক ফ্লাট ছাড়াও নামে-বেনামে তার সম্পদ রয়েছে নানা জায়গায়। আতা  ভেড়ামারা উপজেলায় আরও দুটি অংশে ১৫.১৮ শতাংশ জমি কিনেছেন, যার মূল্য ৬০ লাখ টাকার বেশি। কিন্তু আয়কর নথিতে দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।