Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
আইন-আদালত আর্ন্তজাতিক

অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের অপরাধে দায়ী হবেন বাবা-মা!

admin • 28 Jun 2026, 05:54 PM • পঠিত 4 বার
শেয়ার করুন:
অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের অপরাধে দায়ী হবেন বাবা-মা!

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান অপরাধ করলে শুধু সে নয়, বিশেষ পরিস্থিতিতে তার বাবা-মাও আইনি দায়বদ্ধতার মুখোমুখি হতে পারেন। তবে সন্তানের অপরাধের জন্য অভিভাবকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাস্তি দেয়া হয় না। দেশটির আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব।

রোববার (২৮ জুন) খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইন বিশেষজ্ঞদের অভিমত, অনেক অভিভাবক মনে করেন সন্তান অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের কোনো দায় নেই। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়।

 

এ বিষয়ে দেশটির আইনজীবী আসমা সিদ্দিকী বলেন, যদি কোনো অভিভাবকের নিজের আচরণ অপরাধের পর্যায়ে পড়ে, যেমন- সন্তানের প্রতি অবহেলা, তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়া, অপরাধে উৎসাহ দেয়া অথবা আদালতের নির্দেশিত পুনর্বাসন ব্যবস্থা মানতে ব্যর্থ হওয়া—তাহলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।

 

অন্যদিকে দেওয়ানি আইনের আওতায়, সন্তানের কারণে অন্য কারও ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দেওয়ানি লেনদেন আইন অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের তত্ত্বাবধানে থাকা বাবা-মা, অভিভাবক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সন্তানের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য আর্থিকভাবে দায়ী হতে পারেন।

 

তবে এই দায় স্বয়ংক্রিয় নয়। অভিভাবকরা যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তারা সন্তানের যথাযথ তদারকি করেছিলেন অথবা যথাযথ তদারকি থাকলেও একই ঘটনা ঘটত, তাহলে তারা দায়মুক্তি পেতে পারেন।

 

সম্প্রতি আল আইনের একটি দেওয়ানি আদালত স্ন্যাপচ্যাটে এক তরুণকে হুমকি দেয়ার ঘটনায় এক অপ্রাপ্তবয়স্কের অভিভাবককে তিন হাজার দিরহাম ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় দেখিয়ে দেয় যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, কোনো শিশু যদি ঘটনার সময় ১২ বছর পূর্ণ না করে, তাহলে তাকে ফৌজদারি অপরাধের জন্য দায়ী করা যায় না। তবে প্রয়োজন হলে সরকারি কৌঁসুলি বিচারিক তত্ত্বাবধান, ইলেকট্রনিক নজরদারি, সমাজসেবা বা কিশোর পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।

 

আসমা সিদ্দিকী বলেন, কোনো শিশু ফৌজদারি দায় থেকে অব্যাহতি পেলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সন্তানের অভিভাবক বা তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারেন। তিনি আরও জানান, সন্তানের প্রতি অবহেলা, যথাযথ তদারকি না করা বা তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়ার মতো শিশু সুরক্ষা আইনের লঙ্ঘনের ঘটনায় কারাদণ্ড বা কমপক্ষে পাঁচ হাজার দিরহাম জরিমানার বিধান রয়েছে।

 

আরও গুরুতর ক্ষেত্রে শাস্তি কঠোর হতে পারে। ফেডারেল আইন অনুযায়ী, কোনো কিশোরকে অপরাধে প্ররোচিত করা বা সহযোগিতা করলে কারাদণ্ডের পাশাপাশি কমপক্ষে ৫০ হাজার দিরহাম জরিমানার বিধান রয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দেশ থেকেও বহিষ্কার করা হতে পারে।

 

গত মাসে শারজাহে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই কিশোরীর বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। তবে ঘটনাটির তদন্ত এখনো চলছে।

 

আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অভিভাবকদের সন্তানের বয়স অনুযায়ী নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নজর রাখতে হবে, স্কুলের ভেতরে ও বাইরে তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে।

 

তাদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন শুধু অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য নয়, বরং শিশু, অভিভাবক এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি—সবার অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।