Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

১৬ জুলাই আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ‍্যায়,শহীদ হন আবু সাঈদ

admin • 16 Jul 2025, 09:52 AM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
১৬ জুলাই আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ‍্যায়,শহীদ হন আবু সাঈদ
১৬ জুলাই ২০২৪ বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলনের সবচেয়ে রক্তাক্ত ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে সকালের শুরু থেকেই সারা দেশের প্রধান প্রধান শহরে—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, গাজীপুর, খুলনাসহ—শিক্ষার্থীরা মিছিল, অবরোধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান নেয়। আন্দোলনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কিছু শিক্ষক ও অভিভাবকেরও সংহতি ছিল।
দিবসের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট এবং কোথাও কোথাও সরাসরি গুলি চালায়। বহু স্থানে ছাত্রলীগ ও সরকারি দলের কর্মীরা পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রকাশ্যে হামলা করে। পুলিশের গুলিতে সারা দেশে কমপক্ষে ছয়জন শিক্ষার্থী নিহত হন। এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত শহীদ হন রংপুরের আবু সাঈদ ও ঢাকার তুহিন আহমেদ।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদ দুপুরের পর আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও সূত্রে জানা যায়, তিনি একা দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের দিকে বুক উন্মুক্ত রেখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পুলিশ খুব কাছ থেকে তার বুকে গুলি করে; সহপাঠীরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার এই সম্মুখ প্রতিবাদ ও আত্মদান বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে বীরত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে।
ঢাকার এনাম মেডিকেল কলেজের ছাত্র তুহিন আহমেদ রাজধানীতে আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশ সরাসরি আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়, এতে সে ঘটনাস্থলেই আহত হয়ে পড়ে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যু ঢাকার শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি করে।
১৬ জুলাই-এ সারাদেশে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়—বিশেষ করে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, গাজীপুরে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিহতদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এবং প্রকৃত সংখ্যা সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি; আহতের সংখ্যা শতাধিক, যাদের অনেকে গুলিবিদ্ধ ও লাঠির আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
সরকার সেই সকালেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে, চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করে। শহরের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিজিবি মোতায়েন হয়, মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটে এবং সাংবাদিকদের ওপরও হামলার অভিযোগ আসে। দিনের পুরো সময় প্রশাসনের কেউ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় আসেননি কিংবা সরাসরি কোনো সহানুভূতি প্রকাশ করেননি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে সারাদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন; তিনি কেবল তদন্ত কমিটির আশ্বাস দেওয়া দেন।
১৬ জুলাইয়ের গ্রাফিতি ছিল ছাত্র-যুব বিদ্রোহের বাস্তব, তীব্র ও প্রতিবাদী প্রকাশ—শহীদদের ছবি, স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগান, সংহতি ও প্রতিবাদের রঙিন বার্তা। এই চিত্র আর্টিস্টদের হাতে নয়, বরং জনতার হাতে নিজস্ব যন্ত্রণার ভাষা হিসেবে গড়ে ওঠে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের দৃশ্যপট ও ভবিষ্যতের সামাজিক চেতনাকে রূপায়ণ করে।
১৬ জুলাই ২০২৪—গণতান্ত্রিক দাবির মুখে রাষ্ট্রীয় বল প্রয়োগ, শিক্ষার্থীদের রক্তদানে চরম ক্ষোভ ও শোকের মিলনমঞ্চ। নিহত, আহত ও নিখোঁজ ছাত্রদের স্মৃতি গণতন্ত্র ও অধিকার রক্ষার সংগ্রামে যুগ যুগ ধরে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।