Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

১৫ লাখ টাকা দেনমোহর পরিশোধের চাপ,রাজমিস্ত্রির আত্মহত্যা

admin • 09 Aug 2026, 08:15 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
১৫ লাখ টাকা দেনমোহর পরিশোধের চাপ,রাজমিস্ত্রির আত্মহত্যা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পারিবারিক কলহ ও দ্বিতীয় বিয়ের দেনমোহরের ১৫ লাখ টাকা পরিশোধের চাপের মধ্যে মোহাম্মদ আলমগীর (২৭) নামে এক রাজমিস্ত্রি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও তার পরিবার।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার মাতুয়াইল গোবিন্দপুর কবরস্থান রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গভীর রাতে ওই এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে আলমগীরের মরদেহ উদ্ধার করে।

পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার (৯ আগস্ট) ভোরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জসীম উদ্দীন জানান, দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে খবর পেয়ে মাতুয়াইল গোবিন্দপুর কবরস্থান রোড এলাকার একটি বাসা থেকে আলমগীরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে আলমগীর আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে থাকা বাঁশের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আলমগীরের প্রথম স্ত্রী মোছা. শিরিন আক্তার জানান, তিন বছর প্রেমের সম্পর্কের পর ১০ বছর আগে বিয়ে করেন তারা। তাদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

শিরিনের দাবি, ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে আলমগীর পাশের বাসার এক তরুণী রাশিমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে তাকে ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই দ্বিতীয় স্ত্রী কাবিনের টাকা পরিশোধের জন্য আলমগীরকে চাপ দিতে থাকেন বলে দাবি করেন শিরিন।

এ নিয়ে আলমগীরের সংসারে অশান্তি তৈরি হয় বলেও জানান তিনি। শিরিনের ভাষ্য, এ বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় তাকে মারধরও করতেন আলমগীর। নিজের মা-বাবার সঙ্গেও তার তেমন যোগাযোগ ছিল না। ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করে টেনেটুনে সংসার চালাতেন তিনি।

শিরিন বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের পর ১৫ লাখ টাকা দেনমোহর পরিশোধের চাপ ও পারিবারিক নানা টানাপোড়েন নিয়ে আলমগীর মানসিকভাবে চাপে ছিলেন। সেই চাপ থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে তার ধারণা।

নিহত আলমগীর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মদন গ্রামের মৃত ছনু মিয়ার ছেলে। তিনি যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল গোবিন্দপুর কবরস্থান রোড এলাকার শহীদ মিয়ার ভাড়া বাসায় থাকতেন। দুই কন্যাসন্তানের জনক আলমগীর ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।