প্রথম সন্তানের প্রতীক্ষায় একে একে কেটে গেছে ১৪টি বছর। দীর্ঘ এই অপেক্ষা অবশেষে পূর্ণতা পেয়েছে হুমায়ুন কবীর-শিরিনা ইসলাম দিনা দম্পতির। তাদের কোলজুড়ে প্রথম সন্তানটি এসেছে পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে। নতুন বছরের প্রথম দিনটি তাই এই পরিবারের কাছে শুধু উৎসব নয়, একটি নতুন জীবনের আগমনে আনন্দেভরা বিশেষ মুহূর্ত।
প্রথম সন্তানকে কোলে নেওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগ ছুঁয়ে যায় হুমায়ুন কবীরকে। তিনি সমকালকে বলেন, ‘এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। যিনি এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাননি, তিনি তা পুরোপুরি বুঝবেন না।’ তাঁর ভাষায়, ‘এখন মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবকিছু পেয়ে গেছি।’
আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর মিরপুর-১ এ অবস্থিত মা ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জন্ম নেয় শিশুটি। সোমবার মধ্যরাতেই প্রসববেদনা শুরু হয়েছিলো শিরিনা ইসলাম দিনা। তখনই দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বামী হুমায়ুন।
ঢাকার আমিনবাজারে থাকেন এই দম্পতি। হুমায়ুন ছাপাখানায় কর্মরত। তাঁর স্ত্রী শিরিনা ইসলাম দিনা সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর থেকেই মা ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। শারীরিক কোনো জটিলতা না থাকলেও ঝুঁকি এড়াতে তারা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের সিদ্ধান্ত নেন।
পহেলা বৈশাখে ছেলেসন্তানের জন্মকে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। দীর্ঘদিন সন্তান না হওয়ায় চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুব বেশি চিকিৎসা করাননি। একবার একজন চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি নিয়মিত নামাজ ও প্রার্থনার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছেন। তার বিশ্বাস, আল্লাহর রহমতেই এই সন্তান লাভ করেছেন। এখনও ছেলের নাম রাখেননি তিনি।
এই হাসপাতালের সেবার অভিজ্ঞতা নিয়ে হুমায়ুন কবীর, বর্তমান সময়ে এমন আন্তরিক ও মানবিক আচরণ খুবই বিরল। এখানে এসে তিনি এমন একটি পরিবেশ পেয়েছেন, যেখানে মানুষের প্রতি মানুষের ভালো আচরণ এখনো সম্ভব এ বিশ্বাস তাঁর মধ্যে নতুন করে জেগে উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে এমন সেবা পাওয়া যাবে– এমন ধারণা আগে ছিল না তাঁর।
সন্তানকে ভবিষ্যতে কোরআনে হাফেজ হিসেবে গড়ে তুলতে চান হুমায়ুন কবীর। এ জন্য একটি মাদ্রাসায়ও কথা বলে রেখেছেন। তাঁর ইচ্ছা, সুযোগ হলে ভবিষ্যতে সেখানেই ছেলেকে ভর্তি করাবেন। অর্থনৈতিকভাবেও তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে আছেন জানিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে যা পেয়েছি, তা দিয়েই সারা জীবন স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারবো। আলাদা কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও সন্তানের সঠিক লালন-পালন করতে পারবো, এমন বিশ্বাস আছে।’
হাসপাতালটি বেছে নেওয়ার পেছনে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পরিচিতজনের কাছে শুনে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, এখানে শিশু চুরির ঝুঁকি নেই। পরিবেশ বেশ নিরাপদ। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন। তিন কেজি ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া তাঁর সন্তান জন্মের পর থেকেই মায়ের দুধ পান করছে।
মা ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. ইকবাল কবীর বলেন, পহেলা বৈশাখে জন্ম নেওয়া শিশুদের ঘিরে এমন আয়োজন আগে চোখে পড়েনি। এ ধরনের উদ্যোগ সেবার মান আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে বলেও মনে করেন তিনি।
তথ্য সূত্র : সমকাল





