হিজবুল্লাহর ভয়াবহ রকেট হামলায় দাবানলে পুড়ছে কিরিয়াত শমোনা শহরসহ উত্তর ইসরায়েল। তেলআবিবের দাবি, লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনীর রকেট হামলায় সোমবার থেকে এ আগুন জ্বলছে। অন্তত আটটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়া দাবানল নেভাতে হিমশিম খাচ্ছে ফায়ার ফাইটাররা। এরইমধ্যে ওই অঞ্চল থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগুন নেভাতে ব্যর্থতার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। খবর আল জাজিরা ও ওয়াইনেট নিউজের।
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে প্রথম থেকেই সোচ্চার লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ । অন্যদিকে গাজায় হামলার পাশাপাশি লেবাননের সীমান্তেও প্রায়ই বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। তারই জবাবে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা সোমবার উত্তর ইসরায়েলে অসংখ্য রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে এবং তা থেকে সৃষ্ট দাবানল উত্তরাঞ্চলীয় কিরিয়াত শমোনা, গ্যালিলি-গোলান, রামিম রিজ ও মার্গালিওটসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ফায়ার কর্মকর্তারা জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে আগুন কিরিয়াত শমোনা শহরের উত্তরাঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছে ফায়ারকর্মীরা। সেখানে আগুন নেভাতে গিয়ে অন্তত ৬ ফায়ারকর্মী আহত হয়েছে।
কিরিয়াত শমোনার আবাসিক এলাকা রক্ষার জন্য শহরজুড়ে দশটি ফায়ার টিম মোতায়েন করা হয়েছে। কিরিয়াত শমোনার উত্তরে রামিম রিজে বড় ধরনের আগুন দেখা দিয়েছে।
এরইমধ্যে কিরিয়াত শমোনায় বাড়িঘর এবং মার্গালিওটের আশপাশ ঝুঁকিতে পড়ায় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি ইয়ার্ড, পারগোলা ও একটি বাড়ির ছাদে ইতিমধ্যে আগুন লেগেছে।
শুধুমাত্র গ্যালিলি-গোলান অঞ্চলে প্রায় ১৫টি স্থানে আগুন জ্বলতে থাকার খবর পাওয়া গেছে। কাহাল, মেটুলা, কেফার গিলাদি, রামোট নাফতালি, আলমাগর, মাভো হামা, নাতুর, তেল সাকি এবং পশ্চিম গ্যালিলের শ্লোমির কাছেও আগুন জ্বলছে।
এদিকে উত্তর ইসরায়েলে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকারের সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। আজ মঙ্গলবার সকালে এক এক পোস্টে নাফতালি বলেন, আগুন জ্বলছে, আরও ছড়িয়ে পড়ছে আগুন। আমাদের অবশ্যই উত্তরকে বাঁচাতে হবে।
নাফতালি বলেন, হিজুল্লাহর হামলায় সমৃদ্ধ ও সুন্দর স্থানগুলো ধ্বংসস্তূপের শহরে পরিণত হয়েছে। এরইমধ্যে ঘরবাড়ি হারানো লোকেরা অন্য কোথাও তাদের জীবন শুরুর পরিকল্পনা করছে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় নির্বিচার বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গত আটমাস ধরে ইসরায়েলের হামলায় সোমবার পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৬ হাজার ৪৭৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৮২ হাজার ৭৭৭ জন আহত হয়েছে।





