লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদল হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেটে উত্তর ইসরায়েলের ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৩ জুন) লেবানন থেকে ছোড়া রকেটে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা সোমবার রাত গড়িয়ে মঙ্গলবার সকাল হলেও নেভাতে পারেনি ইসরায়েলি ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। খবর জেরুজালেম পোস্ট ও টাইমস অব ইসরায়েলের।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দাবানলের আগুনে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। কয়েকটি বাড়িতেও আগুন ধরে গেছে। অবশ্য ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি হামলা ঘিরে লেবানন সীমান্তের কাছাকাছি ইসরায়েলি শহরের বাসিন্দাদের আগেই সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।
সোমবার ইসরায়েলের পার্ক কর্তৃপক্ষ বলেছে, আগুন ইতিমধ্যে কয়েকশ একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাতীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ৯টি ব্রিগেড কিরিয়াত শমোনা শহরসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় গভীর রাত পর্যন্ত আগুন নেভাতে কাজ করেছে।
এদিকে এ ঘটনার জেরে বেশ কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগুনের ধোঁয়ায় ছয়জন আইডিএফ রিজার্ভ সেনা সামান্য আহত হয়েছে। ছয়জনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
গত অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। আট মাস পার হয়ে গেলেও এই যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। বেশ কয়েক বার শান্তি আলোচনা সামনে অগ্রসর হলেও শেষ পর্যন্ত আর চুক্তি হয়নি। ইতিমধ্যে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৩৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৮০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সেনা ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা নিয়মিত পাল্টাপাল্টি হামলা করে আসছে। হিজবুল্লাহ বলছে, ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদ এবং গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদল হামাসের সমর্থনে তারা ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করছে। এসব পাল্টাপাল্টি হামলায় দুপক্ষের বহু প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।





