Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

সেলফিন অ্যাপে ৮ লক্ষ টাকা প্রতারণা, এক মাস ব্যাংকে ঘুরেও মিলছে না টাকা

admin • 01 Dec 2025, 04:46 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
সেলফিন অ্যাপে ৮ লক্ষ টাকা প্রতারণা, এক মাস ব্যাংকে ঘুরেও মিলছে না টাকা

ইসলামি ব্যাংকের সেলফিন অ্যাপ ব্যবহার করে সংঘটিত একটি বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণার ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আবু তৈয়ব (২৮)। তিনি এসএম আবুল বাসারের ছেলে।

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে তিনি নিজের ইসলামি ব্যাংক একাউন্ট থেকে ৮ লক্ষ টাকা রাঙ্গামাটি শাখার একটি একাউন্টে ট্রান্সফার করেন। টাকা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গেই ওই একাউন্ট থেকে তা তাৎক্ষণিকভাবে অন্য একাধিক একাউন্টে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে যাকে টাকা পাঠানো হয়েছিল, তিনি টাকা পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

 

ঘটনার পর মোঃ আবু তৈয়ব ইসলামি ব্যাংকের চট্টগ্রাম নর্থ জোনে যোগাযোগ করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেয়। তিনি চট্টগ্রাম ডবলমুরিং থানায় জিডি নং–১৮৭৮ দায়ের করেন। এরপর ইসলামি ব্যাংকের হেড অফিসের ব্রাঞ্চ কন্ট্রোল ডিভিশনে যোগাযোগ করা হলে রাঙ্গামাটি শাখার সংশ্লিষ্ট একাউন্টে “No Withdraw” নির্দেশনা জারি করা হয়।

 

ব্যাংকের এই নিষেধাজ্ঞার পর প্রতারকের ওই একাউন্টে অন্য একটি উৎস থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা হয়, যা বর্তমানে ব্লক অবস্থায় রয়েছে। তবে একাধিকবার লিখিত আবেদন, সিগনেচার ভেরিফিকেশন, একাউন্ট ওপেনিং ফাইলের কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও ব্লক থাকা অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী।

 

মোঃ আবু তৈয়ব জানান, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত ব্যাংকের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও শেষ পর্যন্ত তাকে জানানো হয়—এই বিষয়ে ব্যাংকের কোনো সমাধান দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তিনি আদালতের মাধ্যমে মামলা করলে কোর্টের আদেশ অনুযায়ী ব্যাংক ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে তাকে জানানো হয়।

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি যখন ব্লক থাকা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অন্তত ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেন, তখন ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়— “এই টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।” এমন বক্তব্যে তিনি মানসিকভাবে চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতারকের সংশ্লিষ্ট একাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। উল্টো প্রতিকার চাইতে গেলে তাকে বিভিন্ন আইনি জটিলতার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করেন।

 

এ ঘটনায় ব্যাংকের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল। তাদের মতে, ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গ্রাহকের টাকা মুহূর্তেই হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পরও ব্লক থাকা অর্থ ফেরত না পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবিদার।

 

ভুক্তভোগী মোঃ আবু তৈয়ব বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।