রাঙামাটি জেলার সবথেকে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী খাবার বাঁশের কোড়ল। রাঙামাটির সব ধরনের কাঁচাবাজারে আর কিছু না পাওয়া গেলেও বাঁশের কোড়ল থাকবেই। রাঙামাটি জেলার মানুষের কাছে বাঁশের কোড়ল নরমাল একটি সবজি হিসেবেই সমাদৃত।
অতি সাধারণ পাহাড়ি গৃহস্থ বাড়ি থেকে শুরু করে রাঙামাটির নামকরা সব হোটেল গুলোতে নিয়মিত এই খাবারটি রান্না করা হয়। রাঙামাটি ঘুরতে গিয়ে বাঁশের কোড়ল খায়নি এমন লোক হয়তো খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
কচি বাঁশের কান্ডকে মূলত বাঁশ কোড়ল বলা হয়।চাকমা ভাষায় বাঁশ কোড়লকে বলা হয় বাচ্ছুরি; মারমা ভাষায় মেহ্যাং; ত্রিপুরা ভাষায় মেওয়া এবং তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় বাচ্ছুই।কচি বাঁশ কেটে সেটাকে ছুলে ভেতরের নরম অংশ বের করে ফেলা হয়। তারপর সেই কোড়ল নিজের ইচ্ছে মতো কেটে বিভিন্ন মসলা দিয়ে রান্না করা হয়। তবে একদম মিহি করে কাটলে খেতে ভালো হয়। কেউ চিংড়ি দিয়ে রান্না করে, আবার কেউ মাংসের সাথে, কেউবা খেতে পছন্দ করে শুধু নিরামিষ। যেভাবেই রান্না করা হোক না কেন বাঁশের কোড়ল কিন্তু সবার কাছেই বেশ উপাদেয় একটি খাবার।
তিন পার্বত্য জেলায়ই বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ কোড়ল পাওয়া যায়। তবে সব বাঁশের কোড়ল খাওয়া যায় না। যেগুলো খাওয়া যায় তার মধ্যে মুলি বাঁশ, ডলু বাঁশ, মিতিঙ্গ্যা বাঁশ, ফারুয়া বাঁশ, বাজ্জে বাঁশ, কালিছুরি বাঁশসহ বেশ কয়েক প্রজাতির বাঁশ কোড়ল পাওয়া যায়। তবে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ কোড়লের স্বাদে ভিন্নতা রয়েছে। সবজি হিসেবে ভাজি, মাংস দিয়ে রান্নাসহ বিভিন্ন রেসিপির মাধ্যমে খাওয়া যায় এটি। বর্তমানে বাঙালিদেরও জনপ্রিয় একটা খাবারে পরিণত হয়েছে এটি।
স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁয় রকমারি খাবার হিসেবে বাঁশ কোড়ল বেশ জনপ্রিয়। পর্যটকদের কাছেও এটি অন্যতম একটি আকর্ষণীয় খাবার। ঢাকায় পাহাড়ি রেস্টুরেন্টগুলোতেও পাওয়া যায় বাঁশ কোড়লের সুস্বাদু বিভিন্ন খাবার। চীন, জাপান, ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামসহ অনেক দেশে খাবারটির প্রচলন থাকায় আন্তর্জাতিকভাবেও বেশ চাহিদা রয়েছে এর।
বছরের মে থেকে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত এই বাঁশ কোড়লের ভরা মৌসুম থাকে। বাঁশ কোড়ল মাটি হতে ৪-৫ ইঞ্চি গজিয়ে উঠলে এটি খাওয়ার উপযোগী হয়। বাঁশ পরিণত হওয়ার আগে স্থানীয় পাহাড়িরা বাঁশ গাছের গোড়া থেকে কচি অংশ সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। প্রতি কেজি বাঁশ কোড়ল ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
পাহাড়িদের পাশাপাশি বাঙালিদের মধ্যে বাঁশ কোড়ল খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে পর্যটকদের কাছে এর ডিমান্ড বেশি। বাঁশ কোড়ল খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি অনেক রোগের জন্যও এটি খুব ভালো। বাঁশ কোড়ল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।





