যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে খাবারের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। উত্তর গাজায় জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে খাদ্যের চাহিদা মেটাতে অনেকেই পোষা ঘোড়া জবাই করতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিবারের শিশু সদস্যদের মুখে তুলে দিচ্ছেন রান্না করা ঘোড়ার মাংস। এ প্রসঙ্গে শরণার্থী ৬০ বছর বয়সী আবু জিবরিল বলেন, পালিত ঘোড়া জবাই করে সন্তানদের খাওয়ানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। তীব্র আর ভয়াবহ ক্ষুধা আমাদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, আর শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে। খবর এনডিটিভি।
তার পালিত দুটি জবাইকৃত ঘোড়ার মাংসের সঙ্গে চাল রান্না করে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মাঝে বিলি করেন তিনি। তবে খাবারটি যে ঘোড়ার মাংস দিয়ে তৈরি, তা গোপন রাখা হয়। ইসলাম ধর্মে ঘোড়ার গোশত খাওয়া হারাম বা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ না হলেও এটি খাওয়া মাকরুহ। কেননা গণহারে ঘোড়ার গোশত খেলে জিহাদের সময় ঘোড়ার সহায়তা নিতে সমস্যা হতে পারে। তাই বলা হয়ে থাকে, ঘোড়ার গোশত খাওয়া মাকরুহ।
গত বছরের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের মূলভূখণ্ডে হামলা চালানোর জেরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এর আগে গাজার সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির ছিল জাবালিয়া। হামলা শুরুর পর কাছের বেইত হানুন থেকে পালিয়ে জাবালিয়ায় আশ্রয় নেন জিবরিল ও তার পরিবার। উদ্বাস্তু শিবিরে তাঁবুর নিচে দিন যাপন করছেন তিনি ও তার পরিবার।
প্রায় অর্ধ বর্গমাইলের এই শরণার্থী শিবির স্থাপন করা হয় ১৯৪৮ সালে। আগে থেকেই এখানে দূষিত পানি, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ আর ঘনবসতির সমস্যা ছিল। এখানে বর্তমানে এক লাখেরও বেশি শরণার্থী বসবাস করছেন। ইতোমধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত এবং বিরামহীন হামলার কারণে এখানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হচ্ছে জরুরি সহায়তা সংস্থাগুলো। এতে করে খাদ্য সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সম্প্রতি জানিয়েছে গাজার প্রায় ২২ লাখ মানুষের মাঝে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে শিগগিরই।
শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাবালিয়া থেকে চার মাইল দূরের এক হাসপাতালে অপুষ্টিতে মারা যায় দুই মাস বয়সী এক শিশু, জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত চার মাসে যুদ্ধে গাজার ২৯ হাজার ৬০৬ জন নিহত হয়েছেন।





