Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
আর্ন্তজাতিক

বিয়ের আগে নিখোঁজ বর, ‘ক্ষতিপূরণের’ জন্য আটকে রাখল কনেপক্ষ

admin • 03 Dec 2024, 09:18 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
বিয়ের আগে নিখোঁজ বর, ‘ক্ষতিপূরণের’ জন্য আটকে রাখল কনেপক্ষ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের আমেথিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘটেছে উদ্ভট এক ঘটনা, যা নাটক সিনেমাকেও হার মানায়। বিয়ের আগের দিন আচমকাই ‘নিখোঁজ’ পাত্র। বাড়ির লোকেরা খুঁজে না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করেন।

 

এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অজান্তেই কনের পরিবার বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল। বিয়ের রাতে অতিথিরা আসতে শুরু করলেও বর ছিলেন ‘নিখোঁজ’। তবে, পরে পাত্র বিয়ে করতে গেলে বরকে জিম্মি বানায় পাত্রীপক্ষ। জানিয়ে দেয়, এ বিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বিয়ে বাতিল।

   

তবে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যা খরচ হয়েছে, সেই খরচ না দিলে পাত্রকে যেতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয় পাত্রীপক্ষ। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুলস্থুল পড়ে যায়। শেষে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। উদ্ধার করে পাত্রকে।

   

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন এসব তথ্য জানায়। পুলিশ জানায়, পাত্রের নাম সোহনলাল যাদব। তিনি অযোধ্যার বাসিন্দা। বিয়ের আগের দিন আচমকাই ‘নিখোঁজ’ হয়ে যান সোহনলাল। তাঁর বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়। শেষে পুলিশের দ্বারস্থ হয় সোহললালের পরিবার। তখনও পাত্রের নিখোঁজের খবর পৌঁছয়নি পাত্রীর বাড়িতে। তাঁরা বিয়ের আয়োজনও সেরে ফেলেন। বিয়ের লগ্ন এসে গেলেও পাত্রের কোনও দেখা না মেলায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পাত্রীর বাড়ির লোকেরা। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ থানা থেকে ফোন আসে তাঁদের কাছে। থানায় ডেকে পাঠানো হয় পাত্রীর অভিভাবকদের।

   

থানায় হাজির হতেই তাঁরা জানতে পারেন পাত্র ‘নিখোঁজ’। তাঁকে খোঁজা হচ্ছে। বিয়ের ঠিক আগে যুবক বাড়িতে ফিরে আসেন। সেই খবর পেয়েই পাত্রের বাড়িতে যায় পুলিশ। তাঁকে বুঝিয়ে বিয়ে করতে পাঠানো হয়। কিন্তু এ বার পাত্রীপক্ষ বেঁকে বসে। সোহনলাল বিয়ে করতে পৌঁছতে তাঁকে আপ্যায়ন করা হয়। কিন্তু জানিয়ে দেওয়া হয়, এ বিয়ে হবে না। তার পরই সোহনলালকে আটকে রেখে অনুষ্ঠানের সব খরচ দাবি করে পাত্রীপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে হুলস্থুল বেধে যায়।

   

কনেপক্ষের অভিযোগ, অন্য তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে সোহনলালের। সেই তথ্য তারা পেয়েছে। তাই এই বিয়েতে রাজি নয় তারা। যদিও পাত্রীর বাড়ির অভিযোগকে সম্পূর্ণ নাকচ করেছেন সোহনলাল।

 

পাল্টা তাঁর দাবি, তিনি ‘নিখোঁজ’ হননি। লখনউয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর ফোন কাজ করছিল না। ফোন চালু করতেই পুলিশ ফোন করে দেখা করতে বলে। তাঁর কথায়, ‘বিয়ে করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ওঁরা রাজি নয়। আমার কাছে থেকে অনুষ্ঠানের সব খরচ দাবি করেছে।’

 

কনের বাবা লাল বাহাদুর যাদব জানান, ১০ মাস আগে বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল। তিলক অনুষ্ঠানের তিন দিন পর, সে (বর) বিয়েতে না বলেছিল। কেন আমরা জিজ্ঞাসা করলে সে বলেছিল যে সে একটি গাড়ি চায়। আমরা তাতেও রাজি হয়েছিলাম। তারপর সে বললো সে গাড়ি চায় না, বরং নগদ টাকা চায়। আমরা আবার রাজি হয়েছিলাম, আর কোনো সমস্যা আছে কি না, সে বলল না, তাই আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি।

 

কনের বাবা আরও বলেন, বর বিয়েতে সম্মত হয়েছিল কারণ পুলিশ তাকে সতর্ক করেছিল যে, সে যৌতুকের মামলার মুখোমুখি হতে পারে। চাপের মুখে সে বিয়েতে রাজি হয়েছিল। সে বিয়ের তিন দিন আগে পালিয়ে গিয়েছিল, সে অন্য একজন নারীর সাথে সম্পর্ক করে। আমাদের আগে বলা উচিত ছিল, আমরা চাই না যে সে আমাদের খরচ বহন করুক এবং আমরা এই বিয়ের আগে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাই না।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।