Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ জাতীয় জেলার খবর

বাবার মারধরের ভয়েই হলিক্রস ছাত্রীর আত্মহত্যা

admin • 27 Aug 2022, 01:09 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
বাবার মারধরের ভয়েই হলিক্রস ছাত্রীর আত্মহত্যা
দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় উচ্চতর গণিতে ফেল করায় বাবার মারধরের ভয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী পারপিতা ফাইহা। মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পারপিতা ফাইহা প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় উচ্চতর গণিতে ফেল করে। সে সময় ফেল করার কারণে ফাইহার বাবা তাকে মারধর করেন। দ্বিতীয় সাময়িকেও একই বিষয়ে ফেল করলে ক্লাস শিক্ষক তার বাবাকে স্কুলে আসতে বলেন। এতে ফাইহা ভয় পেয়ে যায়। সে কারণে স্কুল থেকে ফিরে বাসায় গিয়ে পারপিতা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।’   হলিক্রস শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। অন্যটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আঞ্চলিক অফিসের অধীনে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আগামী সপ্তাহে এই তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।   তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নিহত শিক্ষার্থীর পারিবারিক কলহ ছিল। পারপিতা সৎমায়ের সঙ্গে তেজগাঁও এলাকায় একটি বাসায় থাকত। তার বাবা রাগী প্রকৃতির। প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় উচ্চতর গণিতে ফেল করায় তাকে বেল্ট দিয়ে আঘাত করেন। দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় একই বিষয়ে ফেল করলে ক্লাস শিক্ষক তার বাবাকে স্কুলে আনতে বলেন। এতে সে ভীষণ ঘাবড়ে যায়। ফেল করার বিষয়টি জানলে তার বাবা আবারও তাকে মারধর করবেন এই ভয়ে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।’   তদন্ত কমিটি সরেজমিন শিক্ষক, অধ্যক্ষ, গণিতের শিক্ষক ও পারপিতার সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেছে। দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় উচ্চতর গণিতে ফেল করা আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর খাতা সংগ্রহ করে তা পুনর্মূল্যায়ন করেছেন। তবে শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন সঠিক ছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।   উচ্চতর গণিতের ওই শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত বলেও প্রমাণ পেয়েছে কমিটি। ওই শিক্ষক শুধু অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীই নয়, নিজ ক্লাসের শিক্ষার্থীদেরও বাসায় নিয়ে কোচিং করান। এ বিষয়টি স্বীকার করেননি স্কুলের শিক্ষকরা। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি।     এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ‘হলিক্রসের ছাত্রী নিহতের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আমরা এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করি। কমিটির সদস্য সরেজমিন গিয়ে ক্লাস শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও নিহতের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর তার পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে খোঁজ নিয়ে মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করা হয়েছে। মূলত পারিবারিক কলহের কারণে ওই ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আগামী সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই প্রতিবেদন পাঠানো হবে।’   অন্যদিকে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির সদস্য শিক্ষা পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘সরেজমিন গিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেছি। ফেল করা সব শিক্ষার্থীর খাতা ও প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সেসব খাতা পুনরায় মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।’   হলিক্রস স্কুলের নবম শ্রেণির ‘সি’ শাখার ছাত্রী পারপিতা গত মঙ্গলবার স্কুল থেকে ফিরে বাসায় না গিয়ে লিফটে ভবনের ছাদে চলে যায়। স্কুলের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছাদ থেকে নিচে ঝাঁপ দেয়। আহত অবস্থায় পারপিতাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে পান্থপথের স্কয়ার হসপিটালে স্থানান্তর করা হয়। রাত ৮টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।