বান্দরবানে বেনজীর আহমেদের স্ত্রী ও কন্যাদের নামে আছে প্রায় ২৫ একর জমি। ভয়ভীতি আর প্রতারণার মাধ্যমে দখলের অভিযোগ করে সেসব জমি ফেরত চান আগের মালিকরা। আদালতের আদেশের পর রিসিভার কমিটির অধীনে পড়ে আছে এই বিপুল সম্পত্তি।
বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের মাঝেরপাড়া। সবুজ পাহাড়ের মাঝে হঠাৎ লোহার দরজা। ভেতরে মাছের ঘের, গরুর খামার আর বিশাল বাংলোবাড়ি। পাহাড়ের বুকে এসব সম্পত্তি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের স্ত্রী আর কন্যাদের নামে কেনা। এসব জমিতে নিয়োগ দিয়েছিলেন আমমোক্তার। এখন বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবার পলাতক, আর সেই আমমোক্তারও গা ঢাকা দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, বলার কি কিছু আছে? বলার তো কিছু নাই। বেনজীর নামে এক পুলিশের কর্মকর্তা কিনছে আর কি তার পাওয়ার খাটিয়ে। একজনস্থানীয় মারমা (বেনজীরের লোক)কেয়ারটেকার তিনি পাহাড়িদের জায়গা টাকা দিব বলে, জায়গাগুলো জোর করে নিয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৫ একরের এই বিশাল জায়গা বেনজীর নিয়েছেন ভয়ভীতি আর প্রতারণার মাধ্যমে। সময়ের ব্যবধানে পতন হয়েছে বেনজীর সাম্রাজ্যের; এখন জমি ফেরত চান আদি মালিকরা। জমির মালিকরা জানান, আমার জায়গায় আসতে পারি না। ঢুকতে পারি নাই। সব লোহা দিয়ে আটকানো। পাহাড়ি জায়গা, বেনজীর দখল করে, আমার জায়গা ফেরত চাই।
আদালতের আদেশে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই এসব সম্পত্তি তত্ত্বাবধানে নেয় জেলা প্রশাসন। এরপর থেকে সেভাবেই পড়ে আছে এই বিপুল সম্পত্তি।
বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল আলম জানান, রিসিভার হিসেবে তার সেই হর্টিকালচার প্লটটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয় দুদকের মাধ্যমে। এখানে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একটা রিসিভার কমিটি করে দেওয়া হয়। সেই কমিটির মাধ্যমে আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই তখন থেকেই বেনজীরের সেই সম্পত্তিটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ মে সপরিবারে দেশ ছাড়েন বেনজীর আহমেদ।





