গতকাল পর্যন্ত যে বাড়িতে আনন্দের পরিবেশ ছিল, কনেকে নিয়ে আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠেছিল সবাই, সেখানে আজ নীরবতা। বিয়ে নিয়ে সব মেয়েই স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু এমন দুর্ঘটনার কথা কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারবেন না। শূন্য বিয়েবাড়িতে দুই হাতে মেহেন্দি আর হলুদবরণ কনের চোখই জানান দিচ্ছে তাঁর কষ্টের কথা।
ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার পিছোর তহসিলের ভাউন্তি থানার অন্তর্গত মনপুরা গ্রামে। ওই গ্রামে গত ২১ মে পাত্র ভূপেন্দ্রের সঙ্গে কন্যা রচনার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের সব প্রস্তুতিও প্রায় শেষ হয়েছিল। বিয়ের রাতে কনেপক্ষের আত্মীয়স্বজনরা বরযাত্রীদের সাদরে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিয়ের মন্ডপ পর্যন্তও নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু তার পরেই ঘটে দুর্ঘটনা।
বিয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বর-কনে একে অপরকে মালা পরিয়ে দেন। তারপর শুরু হয় বিয়ের আনন্দ-উৎসব। নাচে-গানে মেতে ওঠে বর-কনে দুই পক্ষই। রাত তিনটার দিকে বিয়ের অনুষ্ঠানের আগে কিছু একটা সামান্য বিষয় নিয়ে রেগে গিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থল থেকে পালিয়ে যায় বরযাত্রী।
এই ঘটনার কথা মেয়ের পরিবারের সদস্যরা জানার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা বরের খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু তন্নতন্ন করে খুঁজেও বরের খোঁজ পাওয়া যায়নি। শেষমেশ জানা যায় যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় বর পালিয়ে গিয়েছেন। আসলে বিয়েতে বরের আত্মীয়রা কিছু নগদ টাকা ও একটি ওয়াশিং মেশিন দাবি করেছিলেন। সেই দাবি পূরণ না হওয়াতেই এই অভব্যতা!
জানা গিয়েছে, মেয়ের বাবা বার বার চেষ্টা করেও বরকে রাজি করাতে পারেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পুত্রবধূকে ছাড়াই বরযাত্রী ফিরিয়ে নিয়ে যায় বরের পরিবার। পরের দিন ২২ মে মেয়ের পরিবার ভাউন্তি থানায় গিয়ে এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করে। ভাউন্তি থানার পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বর ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
সুত্র: নিউজ ১৮ বাংলা





