Tuesday, 27 October 2026
শিরোনাম
জামালপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে টানা ৩ দিনের ছুটি শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মব নয়, ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন: তথ্য উপদেষ্টা ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন সচিবালয়, ব্যাহত দাপ্তরিক কার্যক্রম যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় আইনজীবী তালিকাভুক্তির বয়স ৩৫ বছর করার সিদ্ধান্ত কুষ্টিয়ায় জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ মো: জামাল উদ্দিন সনদ সমর্পণ না করে অন্য পেশায় যুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট ভারতে ৬১ শতাংশ মুসলিমদের ঈদের ছুটি ১ দিন, বাংলাদেশে হিন্দুদের পূজার ছুটি ৫ দিন
এক্সক্লসিভ

বন্ধ্যাত্বে ভোগা দম্পতির জন্য আশার আলো: ত্বকের ডিএনএ থেকে তৈরি হলো ভ্রূণ!

• • পঠিত 8 বার
শেয়ার করুন:
বন্ধ্যাত্বে ভোগা দম্পতির জন্য আশার আলো: ত্বকের ডিএনএ থেকে তৈরি হলো ভ্রূণ!
মানুষের ত্বকের কোষ থেকে ডিএনএ নিয়ে এবং তা শুক্রাণুর সঙ্গে নিষিক্ত করে প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তরের মানব ভ্রূণ তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। বৈজ্ঞানিকদের মতে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটি এক বড় অগ্রগতি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি বয়সজনিত বা রোগজনিত বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে উঠতে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। এমনকি সমলিঙ্গ দম্পতিরাও এই পদ্ধতির মাধ্যমে নিজেদের জিনগতভাবে সম্পর্কিত সন্তান পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে পদ্ধতিটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এটি চিকিৎসায় ব্যবহার করতে অন্তত এক দশক সময় লাগবে। ত্বক থেকে ডিম্বাণু তৈরির প্রক্রিয়া ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা প্রথমে ত্বকের কোষ থেকে নিউক্লিয়াস আলাদা করেন। এরপর সেটি এমন একটি দাতা ডিম্বাণুর মধ্যে স্থাপন করা হয়, যার নিজস্ব জিনগত উপাদান আগেই অপসারণ করা হয়েছিল। এটি ১৯৯৬ সালে ‘ডলি (ভেড়া)’ ক্লোন করার পদ্ধতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে ডিম্বাণুতে ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকায় সেটিকে শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিত করার জন্য বিশেষ কৌশলে ক্রোমোজোমের অর্ধেক (২৩টি) ফেলে দিতে হয়। এই প্রক্রিয়াকে গবেষকরা বলছেন ‘মাইটো-মিওসিস’। গবেষণাটি ‘ন্যাচার কমিউনিকেশনস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, নতুন পদ্ধতিতে ৮২টি কার্যকর ডিম্বাণু তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এগুলো শুক্রাণুর সঙ্গে নিষিক্ত করার পর কিছু ভ্রূণ প্রাথমিক স্তরে বিকশিত হয়েছিল, যদিও ছয় দিনের বেশি টিকতে পারেনি। বড় সম্ভাবনা, তবে চ্যালেঞ্জও আছে গবেষক দলের প্রধান প্রফেসর শোখরাত মিতালিপভ বলেন, ‘আমরা এমন কিছু করতে সক্ষম হয়েছি, যা একসময় অসম্ভব মনে হতো।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পদ্ধতিটি এখনো অসম্পূর্ণ। কারণ, ডিম্বাণু ক্রোমোজোম বাছাইয়ে প্রায়ই ভুল করে—কখনও একই ক্রোমোজোম দুই কপি থেকে যায়, কখনও আবার থাকে না। এতে স্বাস্থ্যকর ভ্রূণ তৈরি করা কঠিন হয়। এছাড়া সফলতার হার মাত্র ৯ শতাংশ এবং স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোজোমের যে ‘ক্রসিং ওভার’ হয়, তা এখানে ঘটছে না। বন্ধ্যাত্বে ভোগা দম্পতির জন্য নতুন দিগন্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিটি যদি নিরাপদ ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, তবে এটি আইভিএফ সুবিধা না থাকা দম্পতি, প্রবীণ নারী, বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত পুরুষ কিংবা ক্যান্সারের চিকিৎসায় প্রজননক্ষমতা হারানো রোগীদের জন্য বড় আশার বার্তা হবে। এটি পিতৃত্বের প্রচলিত নিয়মও বদলে দিতে পারে। কারণ, নারীর ত্বকের কোষ ছাড়াও পুরুষের ত্বকের কোষ থেকে ডিম্বাণু তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। ফলে সমলিঙ্গ দম্পতিরাও জিনগতভাবে উভয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সন্তান পেতে পারেন। ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পাউলা আমাটো বলেন, ‘ডিম্বাণু বা শুক্রাণুর অভাবে সন্তানহীন লাখো মানুষের জন্য এটি আশার আলো। পাশাপাশি সমলিঙ্গ দম্পতিদের জন্যও এটি জিনগতভাবে সম্পর্কিত সন্তান পাওয়ার নতুন সম্ভাবনা খুলে দেবে।’ নৈতিকতা ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন ব্রিটেনের হাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রজার স্টারমি এবং এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রিচার্ড অ্যান্ডারসন বলেন, এই অগ্রগতি মুগ্ধকর হলেও নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা জরুরি। তাদের মতে, গবেষণার পাশাপাশি কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে জনসাধারণের আস্থা বজায় থাকে এবং প্রযুক্তি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায়। প্রফেসর অ্যান্ডারসন বলেন, ‘নতুন ডিম্বাণু তৈরির ক্ষমতা অনেক নারীর জন্য নিজের জিনগত সন্তানের জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তবে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।