প্রেমের টানে সুদূর ফিনল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ৩৮ বছর বয়সী সিমোলা মিকা। বাংলাদেশি এক তরুণীকে বিয়ে করতে খ্রিস্টধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তিনি। ধর্মান্তরের পর নিজের নাম রেখেছেন ‘মিকাইল’। বিয়ের মধ্য দিয়ে শান্তিনা জাহান সিমির (২৮) জীবনসঙ্গী হওয়ার পাশাপাশি তার পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকেও আপন করে নিয়েছেন মিকাইল। দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে এসে ওই তরুণীকে বিয়ে করেন মিকাইল। ভিন্ন দেশের নাগরিকের আগমন, ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নবদম্পতিকে একনজর দেখতে ওই তরুণীর বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নববধূর বাবা দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। তিন বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রথম স্বামীকে হারানোর পর সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন শান্তিনা। পরে ফিনল্যান্ডে বসবাসকারী এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সিমোলা মিকার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক গভীর হয় এবং একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
বিয়ের জন্য গত ৯ সেপ্টেম্বর ফিনল্যান্ড সরকার থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেন মিকা। এরপর ২ অক্টোবর বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে জামালপুর জজ কোর্টে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘মিকাইল’ রাখেন। এরপর নিবন্ধিত কাজির মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
নবদম্পতি মিকাইল ও সিমি বলেন, আমরা বর্তমানে খুব সুখে আছি। একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতে সুন্দরভাবে সংসার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। আগামী ১৮ অক্টোবর মিকাইল ফিনল্যান্ডে ফিরে যাবেন। সেখানে গিয়ে সিমি ও তার সন্তানের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের ফিনল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আমরা একসঙ্গে বসবাস করতে চাই। আশা করছি, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সন্তানকে নিয়ে একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে পারব।
এদিকে মেয়ের নতুন জীবনের সূচনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শান্তিনার বাবা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, মেয়ের নতুন জীবনের শুরুতে আমি খুশি। দুজনের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়েছে। আমি চাই, তারা যেন সুখে-শান্তিতে সংসার করেন এবং সারা জীবন একে অপরের পাশে থাকেন।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি নাগরিকের দৌলতপুর গ্রামে এসে বিয়ে করার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে থানায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পৌঁছায়নি।





