সোমবার (২৮ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘এক পক্ষের বক্তব্য না শুনেই ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের দুইজন বিচারপতি যথাক্রমে বিচারপতি খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ। আদেশে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারেকের সাম্প্রতিক দেওয়া সব বক্তব্য অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরাতে হবে। বিচারপতিদ্বয়ের এই আদেশ রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণভাবে হরণ করা। হাইকোর্টের বিচারপতিদ্বয়ের এই নির্দেশ শেখ হাসিনার মনের ইচ্ছা ও তাকে খুশি করার জন্যই দেওয়া হয়েছে।
রিজভী বলেন, প্রধান বিচারপতির কাছে অন্য আদালতে এই রিটটি বদলীর জন্য আবেদন করা হলেও সেটিকে গ্রাহ্য না করে আদালতের আদেশ দেওয়া সম্পূর্ণরূপে ন্যায়বিচারকে পদদলিত করা। আদালতের এ ধরনের আদেশের নামে নিকৃষ্ট প্রহসন করা হয়েছে। বিচারপতিদের এই আদেশ শেখ হাসিনার আমলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আর বিন্দুমাত্র আস্থা রইল না।
তিনি বলেন, আদালতের এ ধরনের আদেশ ফ্যাসিজমের আরেকটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। যে দেশে আইনের শাসন নেই, যে দেশে ফ্যাসিবাদ সর্বত্র পরিব্যাপ্ত সেসব দেশ ছাড়া আদালতের এহেন বিবেকহীন পক্ষপাতমূলক রায় প্রদান নজিরবিহীন। এহেন অবিচারের আদালত শেখ হাসিনার বদৌলতেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। যে কারণে আমরা উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের মুখ থেকে শুনতে পেয়েছি-তারা নাকি শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ। আজ সকালে হাইকোর্টের দু’জন বিচারপতির আদেশেও সেটি নগ্নভাবে ফুটে উঠেছে।
রিজভী বলেন, আওয়ামী সরকার যেহেতু বিরোধী দলের কণ্ঠস্বরকে চেপে রাখতে চায়, সে কারণেই আদালতকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের রাজনীতিকেই নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল আদালত এখন শেখ হাসিনা ও আওয়ামী দুর্বৃত্তদের শেষ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। আমি দলের পক্ষ থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আজ হাইকোর্টের দু’জন বিচারপতির আদেশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।





