জামালপুরের মেলান্দহে ভেজাল সরিষার তেল উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগে একটি অয়েল মিলে অভিযান চালিয়ে কারখানাটি সিলগালা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় প্রতিষ্ঠানের মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে মেলান্দহ পৌরসভার শাহজাতপুর এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জামালপুর জেলা কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিন্নাতুল আরা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জামালপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, শশী অয়েল মিল নামে প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করে ভোজ্য তেল উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে ভেজাল সরিষার তেল উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় মালিক মো. আলিম উদ্দিনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে কারখানায় মজুত থাকা ভেজাল তেল ধ্বংস, প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির ভোজ্য তেল উৎপাদনের কোনো বৈধ অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করে আসছিল। অভিযানে তেলে ভেজালের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কারখানায় মজুত থাকা সব ভেজাল তেল ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা, কারখানা সিলগালা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মালিককে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। তবে তিনি হার্টে রিং পরানোর চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি উপস্থাপন করায় মানবিক বিবেচনায় কারাদণ্ড না দিয়ে জরিমানার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জামালপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি থেকে তেলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনে নমুনাটির কোনো স্বীকৃত ভোজ্য তেলের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তারা সামান্য সরিষার তেলের সঙ্গে বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে ভেজাল তেল বাজারজাত করছিল, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি বৈধ অনুমোদন ছাড়া পুনরায় কোনো ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগও পুনর্বহাল করা হবে না।’
অভিযানে উপজেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।





