Monday, 5 October 2026
শিরোনাম
সারা দেশ ময়মনসিংহ

জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, বিষে ঝলসে গেল কৃষকের স্বপ্নের ভুট্টাক্ষেত

• • পঠিত 9 বার
শেয়ার করুন:
জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, বিষে ঝলসে গেল কৃষকের স্বপ্নের ভুট্টাক্ষেত
ছবি সংগৃহিত

জামালপুরের মেলান্দহে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভুট্টাক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক মাস ধরে সার, শ্রম ও পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা ভুট্টাগাছগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক হযরত আলী ও তার পরিবার।

 

শুধু ফসল নষ্ট নয়, বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে ও তার বাবা আব্দুল জলিল শেখকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন হযরত আলী। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

 

অপরদিকে অভিযুক্ত পক্ষ জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করলেও মারধর ও হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, জমিটি তাদের এবং দখল করে সেখানে ফসল চাষ করা হয়েছিল। এ কারণেই কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী কৃষক হযরত আলী জানান, মেলান্দহ উপজেলার কামারেরচর মৌজার ২০৭২ নম্বর দাগের ২২ শতাংশ জমি প্রায় ১০ বছর আগে মঞ্জু বেপারীর কাছ থেকে দলিলমূলে কেনেন তিনি। পরে জমিটি নামজারি করে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি ওই জমিতে ভুট্টা চাষ করেন তিনি।

 

তার অভিযোগ, রোববার ( ৪ অক্টোবর) দুপুরের দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন জমিতে গিয়ে কীটনাশক প্রয়োগ করেন। এর কিছু সময় পর থেকেই ভুট্টাগাছগুলো বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে যেতে শুরু করে। বিষয়টি জানতে পেরে বিকেলে জমিতে গিয়ে কীটনাশক দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে ও তার বাবা আব্দুল জলিল শেখকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

 

এ ঘটনায় মো. শাকিল, মো. শরিফ, মো. সাগর ও মো. মঞ্জু বেপারীর বিরুদ্ধে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন হযরত আলী।

 

অভিযুক্ত মো. শাকিল জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জমিটি তাদের। অন্য পক্ষ জমি দখল করে সেখানে ফসল চাষ করেছিল। এ কারণেই জমিতে কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। তবে হযরত আলী ও তার বাবাকে মারধর কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

 

এদিকে, ফসল নষ্ট হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

মেলান্দহ থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।