Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

গোমতীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে পানির নিচে বুড়িচং

admin • 23 Aug 2024, 05:38 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
গোমতীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে পানির নিচে বুড়িচং

উজান থেকে নেমে আসা পানি ও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে এরই মধ্যে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ভেঙে গেছে গোমতী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ। এতে বুড়িচং উপজেলার ৯টি ইউনিয়নই এখন পানির নিচে।

 

শুক্রবারে দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বুড়িচংয়ের ইউএনও সাহিদা আক্তার। তিনি জানান, পুরো বুড়িচংই পানির নিচে। স্রোতের মতো পানি প্রবেশ করায় প্রতিনিয়ত পানির উচ্চতা বেড়েই চলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যেভাবে তীব্র বেগে পানি বুড়িচং ঢুকছে এতে দ্রুতই পাশের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা থেকে শুরু করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবাও প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। হঠাৎ নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পাশাপাশি পানিবন্দিদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী।

স্থানীয়রা বলছেন, এতো পানি আগে কখনো দেখেননি গোমতী পাড়ের মানুষ। ভয়াবহ এ বন্যায় মানুষের দুর্ভোগ চরম আকারে পৌঁছেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউপির বুড়বুড়িয়া গ্রামের কাছে গোমতী নদীর বাঁধটি ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে থাকে। এরপর শুক্রবার দুপুর ২টার মধ্যে সারা উপজেলা গোমতীর পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়।

শুক্রবার বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জমান বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে বুড়বুড়িয়া এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধের নিচ দিয়ে পানি বের হচ্ছিল। স্থানীয় লোকজন বালুর বস্তা ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। রাত পৌনে ১২টার দিকে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে থাকে। বাঁধের অন্তত ৩০ ফুট ভেঙে গেছে। নদীর পানি না কমলে এই বাঁধ মেরামত করা সম্ভব না। নদীর পানি যতদিন না কমবে ততদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে থাকবে। শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গোমতীর পানি বিপৎসীমার ১০৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ইউএনও সাহিদা আক্তার বলেন, এখন আর গ্রাম আর ইউনিয়ন হিসেব করে লাভ নেই। পুরো বুড়িচংই পানির নিচে। স্রোতের মতো পানি প্রবেশ করায় প্রতিনিয়ত পানির উচ্চতা বেড়েই চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে আশপাশের উপজেলাও প্লাবিত হতে পারে। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই স্থানীয় লোকজনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এরইমধ্যে অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছেন। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে কাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসন, সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও পানিবন্দি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছেন।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।