ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে একটি সামরিক হেলিকপ্টার দিয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এ সময় সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানা ছিলেন।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শেখ হাসিনা তার ছোট বোনকে নিয়ে গণভবন থেকে নিরাপদে বাংলাদেশ ছেড়েছেন। দেশ ছাড়ার আগে জাতির উদ্দেশে একটি ভাষণ রেকর্ড করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সুযোগ না হওয়ায় আগেই দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।
এদিকে শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির তারকারা কথা বলছেন। তাদের মধ্যে একজন খ্যাতিমান পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেল সোয়া চারটার দিকে ফেসবুক ভেরিফায়েড প্রোফাইলে এক স্ট্যাটাসে নির্মাতা ফারুকী লেখেন, ‘বিজয়ের আনন্দ অবশ্যই করব। কিন্তু এখন সময় সংযমেরও, চোখ-কান খোলা রাখারও। আমরা ২০ বছর প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখেছি। প্রতিহিংসার উত্তর দেব আমরা কাইন্ডনেস এবং এমপ্যাথি দিয়ে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘পাশাপাশি আমরা চোখ খোলা রাখব আগামী দুই-তিনদিন। নিশ্চয়ই আমরা একটা মানবিক গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের দিকে আগাইয়া যাব। লাস্টলি, স্যালুট টু বাংলাদেশি ইয়ুথ অ্যান্ড পিপল ফ্রম অল ওয়াকস। টুগেদার উই স্ট্যান্ড টল।’
এর আগে এদিন দুপুর সোয়া তিনটার দিকে এ পরিচালক লেখেন, ‘৩৬ জুলাইয়ে স্বাধীন দেশে স্বাগতম। কী করে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্থপতির কন্যা থেকে পৃথিবীর ইতিহাসে নিকৃষ্টতম এবং নিষ্ঠুরতম স্বৈরশাসকে পরিণত হলো শেখ হাসিনা। এটা ভবিষ্যতে ইতিহাসের ছাত্ররা মনোযোগ দিয়ে পাঠ করবেন এবং রাজনীতিকরা শিক্ষা নেবেন বলে আশা করি।’
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঢাকাসহ সারাদেশে সরকার সমর্থিত নেতাকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১০০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ১৩ জন ছাড়াও কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জে পৃথক হামলায় হাইওয়ে থানার এক পুলিশসহ মোট ১৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোটাপ্রথা সংস্কারের দাবিতে গত জুলাইয়ের প্রথম থেকে আন্দোলন করে আসছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় গত ১৫ জুলাই রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধে গুলি চালায় পুলিশ।
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের হামলায় কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী ও মানুষের মৃত্যু হয়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছাড়লেন শেখ হাসিনা।





