Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ জাতীয়

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে ছুটল ট্রেন, থামলো সীমান্তে

admin • 15 Sep 2023, 09:54 AM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে ছুটল ট্রেন, থামলো সীমান্তে

অপেক্ষার পালা ফুরালো। ছুটলো ট্রেন। ঝঁকঝঁকে লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) আর মালবাহী চারটি বগি। পরিচালনাকারীরাও বেশ পরিপাটি। ট্রেনটি ৬.৭৮ কিলোমিটার পথ গেলো প্রায় ২০ মিনিটে। ট্রেন থামলো সীমান্তে। উড়লো বাংলাদেশের পতাকা। চলে বাধ ভাঙা উচ্ছ্বাস।

পাঁচ বছর ধরে চলছিলো নির্মাণযজ্ঞ। আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে এবার পালা আনুষ্ঠানিক চলাচলের। এ মাসের শেষে কিংবা অক্টোবরের শুরুতে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে রেলপথটির উদ্বোধন করার কথা। রেলপথটি দু’দেশের বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ২০ মিনিটে ৩০০৭ সিরিয়ালের লোকোমোটিভ নিয়ে আখাউড়া গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন থেকে চারটি বগির মালবাহী ট্রেন ছেড়ে যায়। ৩০ কিলোমিটারের মতো গতিতে যাওয়া ট্রেনটি প্রায় ২০ মিনিটে বাংলাদেশ সীমান্তের শেষ সীমান্তে মনিয়ন্দের শিবনগরে দিয়ে দাঁড়ায়। ওপারেই ভারতের নিশ্চিন্তপুর। সীমান্ত এলাকায় গিয়ে ট্রেন দাঁড়ানোর পর সবার মাঝে উচ্ছ্বাস। বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায় সংশ্লিষ্টদের।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা হলে সংশ্লিষ্টরা জানান, পরীক্ষামূলক চলাচল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের ৯৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি যে দুইভাগ রয়েছে সেগুলো হলো শেষ মুহুর্তের ঘঁষামাজা।

রেলপথ নির্মাণকারী ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার শরৎ শর্মা ও আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ প্রকল্পের পরিচালক (বাংলাদেশ অংশ) মো. আবু জাফর মিয়া ট্রেন চলাচলের সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা সহ সংশ্লিষ্টরা ট্রেনে করে গঙ্গাসাগর থেকে শিবনগর পর্যন্ত যান। সাংবাদিকরাও ট্রেনের লোকোমোটিভে করে ওই পথে চড়েন। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উল্লেখিত পথে আগস্ট মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে এ পথে ট্রেন চালানোর কথা। তবে শোকের মাসের কারণে সেটি পিছিয়ে দেওয়া হয়। সম্প্রতি শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি দেখতে আসেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

 

প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে সাংবাদিকদেরকে জানান তারা। ওই সময়ে ‘গ্যাং কার’ নামে পরিচিত ‘ট্র্যাক কার’ পরিচালনা করা হয়। রেলওয়ের বিশেষ ওই কারটি আখাউড়ার গঙ্গাসাগর থেকে সীমান্তবর্তী শিবনগর পর্যন্ত ৬.৭৮ কিলোমিটার অংশ পর্যন্ত চলাচল করে। গত ১৬ আগস্ট সর্বশেষ ‘গ্যাং কার’ বা ‘ট্র্যাক কার’ চালানো হয়ে। ‘গ্যাং কার’ নামে পরিচিত ‘ট্র্যাক কার’ বিশেষ আকৃতিতে নির্মিত রেলের ‘ইঞ্জিন’। এর সঙ্গে দু’টি বগি সংযুক্ত করে উল্লেখিত পথে চালানো হয়। দুই দেশের এ রেলপথের দৈর্ঘ্য ১২.২৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ৬.৭৮ কিলোমিটার। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ৪৭৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ৫৭ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং ভারতীয় ঋণ ৪২০ কোটি ৭৬ লাখ কোটি টাকা।

 

২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ প্রকল্প নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রথমে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ১৮ মাস। এরপর করোনার প্রভাবসহ নানা কারণে পাঁচ দফা এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ নির্মাণ কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী বছরের জুন নাগাদ করা হয়েছে। প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভারতের নয়াদিল্লির টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের বাংলাদেশ প্রধান শরৎ শর্মা মঙ্গলবার পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘রেলপথ নির্মাণ কাজ শেষ। পরীক্ষামূলক চলাচলের সময় ট্রেনটি যে গতিতে চলেছে এর চেয়ে ডাবল গতিতে এ লাইন দিয়ে চলাচলের সক্ষমতা আছে।’

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী ও আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. আবু জাফর মিয়া সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এ পথে পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানো হলো। যতটুকু মনে হচ্ছে সবকিছু ঠিকঠাক আছে।

 

প্রসঙ্গত, উল্লেখিত রেলপথে ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। প্রথমে মালবাহী ও পরে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করলে আগরতলা-কলকাতা পথের দূরত্ব অনেক কমে যাবে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।