Thursday, 8 October 2026
শিরোনাম
সারা দেশ

আইনশৃঙ্খলা সভায় এমপি- ইউএনওর সামনে জামায়াত নেতাকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ

• • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
আইনশৃঙ্খলা সভায় এমপি- ইউএনওর সামনে জামায়াত নেতাকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির নুরুজ্জামান মীরকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

 

এ সময় ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিককে বাধা দেয়ার পাশাপাশি তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়।

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাছিবুর রহমান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিঞার উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ঘটনার সময়কার ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮৫টি পূজামণ্ডপের সভাপতি-সম্পাদকসহ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিকাল ৫টার দিকে সভা শুরু হয়। সভায় বক্তব্য দেন শ্রীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দুলাল দাস।

 

পরে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহকে বক্তব্য দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির নুরুজ্জামান মীরও বক্তব্য দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে ধাক্কা দিয়ে হলরুম থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

 

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সভায় উপস্থিত অন্যরা নুরুজ্জামান মীরকে আবার হলরুমে নিয়ে এসে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দেন।

 

নুরুজ্জামান মীর মাইক হাতে নিয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খানের বক্তব্যের একটি অংশের প্রতিবাদ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীকে আওয়ামী লীগের মতো দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলা হয়েছে।

 

এ সময় সভাস্থলে উপস্থিত বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তার হাত থেকে মাইক কেড়ে নেয়া হয় এবং হলরুম থেকে বের করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন নুরুজ্জামান মীর। পরে পুলিশ তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় এবং একটি অটোরিকশায় তুলে দেয়।

 

ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় সংসদ সদস্যের ক্যামেরাপারসন পরিচয় দেয়া নাহিদ ইসলাম নামের একজন কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন এবং তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা।

 

এ বিষয়ে নুরুজ্জামান মীর বলেন, ‘প্রথমে বক্তব্য দিতে চাইলে আমাকে লাঞ্ছিত করে হলরুম থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে আবার বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হলে বক্তব্যের একপর্যায়ে আমার শরীরে হাত দিয়ে আমাকে বের করে দেয়া হয়েছে।’

 

ওসি বলেন, ‘ভুল-বোঝাবুঝির কারণে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল।’

 

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাছিবুর রহমান বলেন, ‘সাময়িকভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে তা ঠিক হয়ে যায়।’

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।