গরম পড়তেই বাজারে আমের ঘ্রাণে মন ভরে যায়। ছোট-বড় সবার কাছেই এই ফল অত্যন্ত প্রিয়। রসালো, মিষ্টি ও পুষ্টিগুণে ভরপুর আম শরীরের জন্য উপকারী হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি সতর্কতার কারণও হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা, অ্যালার্জি বা হজমজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের আম খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন থাকা জরুরি।
অনেকেই মনে করেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের আম খাওয়া উচিত নয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, স্বাভাবিকভাবে পাকা ও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া আম সাধারণত গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর নয়। বরং এতে থাকা ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মা ও গর্ভের শিশুর জন্য উপকারী হতে পারে। সমস্যা তৈরি হয় মূলত কৃত্রিমভাবে পাকানো আম থেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে অনেক সময় ক্যালসিয়াম কার্বাইডসহ বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করে আম পাকানো হয়। এই ধরনের রাসায়নিক শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে এবং অন্তঃসত্ নারীদের ক্ষেত্রে তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এতে মাথাব্যথা, বমিভাব, পেটের সমস্যা এমনকি দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার আশঙ্কাও থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় শুধুমাত্র গাছপাকা বা নিরাপদভাবে পাকা আম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও আম খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। আমে প্রাকৃতিক চিনি বা ফ্রুক্টোজের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে আম খাবেন।
কিছু মানুষের আম খাওয়ার পর অ্যালার্জির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে আমের খোসা বা শাঁসের সংস্পর্শে চুলকানি, ফুসকুড়ি, ঠোঁট ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত আম খাওয়া বন্ধ করা উচিত।
এ ছাড়া অতিরিক্ত আম খেলে অনেকের গ্যাস, অম্বল, পেটফাঁপা বা হজমের সমস্যা বাড়তে পারে। যাদের আগে থেকেই অ্যাসিডিটি বা আলসারের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত আম খাওয়া অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। আমে পটাশিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে অতিরিক্ত পটাশিয়াম জমে গিয়ে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে এসব সতর্কতার অর্থ এই নয় যে, সবাইকে আম এড়িয়ে চলতে হবে। সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে নিরাপদ আম খাওয়া সাধারণত উপকারী। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফলটি যেন রাসায়নিকমুক্ত ও স্বাভাবিকভাবে পাকা হয়।
তাই অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ যাদের বিশেষ স্বাস্থ্যসমস্যা রয়েছে, তারা আম খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে সবচেয়ে ভালো।
সূত্র: টিভি ৯





