Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

অনলাইনের চার জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

admin • 11 Oct 2023, 08:20 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
অনলাইনের চার জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১২টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন, ২৭টি সিম, পাঁচটি বিভিন্ন এমএফএস এজেন্ট সিম, পাঁচ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং চার লাখ ২০ হাজার ডিজিটাল (ই-মানি) মানি জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. মাহবুবুল আলম (৩০), লোকমান হোসেন ওরফে রায়হান (২৫), মো. হাসিবুর রহমান (২৬) ও মো. সুমন আলী (২৬)। অনলাইন জুয়া ওয়ানএক্স বেটের মাধ্যমে এই চক্রটি প্রতি মাসে বড় অঙ্কের টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছে।

গত সোমবার সিআইডি সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্টের একটি টিম কুমিল্লা ও ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। আজ বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডি সদর দপ্তরের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার আজাদুর রহমান।

তিনি জানান, গত জুলাই মাসে অনলাইন বেটিং সাইট ওয়ানএক্স বেট সংক্রান্তে অভিযান পরিচালনা করে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ১০ জনসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৪০-৫০ জনের বিরুদ্ধে ১৮ জুলাই পল্টন মডেল (ডিএমপি) থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটি বর্তমানে সাইবার পুলিশ সেন্টারে তদন্তাধীন। এসংক্রান্তে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডি জানায়, ওয়ানএক্স বেটসহ বাংলাদেশে প্রচলিত যতগুলো বেটিং সাইট রয়েছে তার বেশির ভাগই মূলত রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিভিন্ন দেশে স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য ম্যানেজার নিয়োগ করা হয়।

ম্যানেজার বাংলাদেশে জুয়ার এজেন্ট হিসেবে বিশ্বস্তদের নিয়োগ দেয়। জুয়ার এজেন্টরা এ সমস্ত অ্যাপস পরিচালনা করতে পারে টেকনিক্যালি দক্ষ এমন লোক রাখেন।

তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হাসিবুর রহমান এবং মো. সুমন আলীর গ্রামের বাড়ী মেহেরপুর জেলায়। ওয়ানএক্স বেটের অন্যতম একজন বাংলাদেশি এজেন্ট হচ্ছেন মেহেরপুরের সাদ্দাম নামের এক ব্যক্তি। সাদ্দামের জুয়ার এজেন্টের কাজ পরিচালনার জন্য তিনি হাসিবুর ও সুমনকে নিয়োগ করেন।

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে সাদ্দাম ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় বাসা ভাড়া করে দেন হাসিবুর ও সুমনকে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মেহেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এমএফএস এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে পেঁয়াজ ব্যবসায়ী পরিচয় ধারণ করে গোপনে ঢাকায় বসে এই কাজ করছে এই চক্র। এ ছাড়া গ্রেপ্তার মাহবুবুল আলম তার চাচা আনোয়ার এবং অন্য প্রতিবেশীদের নামে এমএফএস এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে অনলাইন জুয়া ওয়ানএক্স বেটের ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। এই কাজে তাকে এমএফএস এজেন্ট সিম সরবরাহ এবং লেনদেনে সহায়তা করেছেন অপর আসামি লোকমান হোসেন ওরফে রায়হান (২৫)। তিনি একটি এমএফএস হাউসের ডিস্ট্রিবিউটর সেলস অফিসার (ডিএসও)। কুমিল্লার মাহবুবুল আলমের চক্র অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে প্রতি মাসে গড়ে ৯ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।